আমরা এমন এক সময়ে বাস করতেছি, যখন ইতিহাসে সম্ভবত মানুষ নিজেকে এর আগে কখনো এতটা স্বাধীন বইলা ভাবে নাই। আধুনিকতার দীর্ঘ যাত্রা আমাদের শিখাইছে- মানুষ নিজেই নিজের কেন্দ্র, নিজের নৈতিকতার উৎস, নিজের পরিচয়ের নির্মাতা এবং নিজের ভাগ্যের একমাত্র স্থপতি। রাষ্ট্র, পরিবার, ধর্ম, ঐতিহ্য কিংবা সম্প্রদায়, যে কোনো বহিরাগত কর্তৃত্বের প্রতি সন্দেহই যেন আধুনিক মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকতার … Continue reading মানুষ কি সত্যিই স্বাধীন?
লেখক: আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ
ইমাম আল-গাজ্জালী: এক ক্রান্তদর্শী বুদ্ধিজীবী ও আত্মার মনস্তাত্ত্বিক
আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে, ১০৫৮ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যের (আজকের ইরান) তুস নামের একটা ছোট্ট এলাকায় গাজ্জালীর জন্ম হয়। ওনার আব্বা ছিলেন চরম গরিব, কিন্তু দিলখোলা একজন মানুষ। উনি সুতা কাইটা বাজারে বিক্রি করতেন। ফারসি ভাষায় সুতা কাটুনিদের বলা হয় ‘গাজ্জাল’, সেখান থেকেই ওনার বংশের নাম হয়া যায় গাজ্জালী(দ্বিমত থাকতে পারে)। উনার আব্বা মারা যাওয়ার … Continue reading ইমাম আল-গাজ্জালী: এক ক্রান্তদর্শী বুদ্ধিজীবী ও আত্মার মনস্তাত্ত্বিক
সরলতা ও অন্যান্য কবিতা
আমার পঞ্চম কবিতার বই ‘শাদা সন্ত মেঘদল’ বার হইছিল বইমেলা ২০১১ সালে। প্রকাশক ছিলেন সরকার আশরাফ, সম্পাদক, নিসর্গ। কবিতাগুলি ২০১০ সালের দিকে লেখা। বিদেশে আসছি প্রায় একযুগ হয়ে গেল কিন্তু দেশের বন্ধন থেকে মুক্ত হইতে পারতেছি না। দেশের জন্য কী যেন একটা মায়া, ভালোবাসা সারাক্ষণ মনে, প্রাণে জড়িয়ে থাকত। কলেজ থেকে ফেরার পথে হারিয়ে যাওয়া … Continue reading সরলতা ও অন্যান্য কবিতা
আল-গাজ্জালির ‘তাহাফুত আল-ফালাসিফা’ নিয়া নোটস
১০৯৫ সালে লিখিত ইমাম আল-গাজ্জালির তাহাফুত আল-ফালাসিফা- Incoherences Of philosophers (দার্শনিকদের অসংলগ্নতা) ইসলামি দর্শন তথা বিশ্ব দর্শনের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক গ্রন্থ। এই বইটিতে তিনি তৎকালীন গ্রিক দর্শন প্রভাবিত মুসলিম দার্শনিকদের(বিশেষ কইরা ইবনে সিনা ও আল ফারাবি) ২০টি প্রধান দাবিকে যুক্তি দিয়া, সিস্টেমেটিকভাবে খণ্ডন করছেন। ভাবতে অবাক লাগে ১১ শতকে( ১০০০ বছর আগে) এক মেধাবী তরুণ, … Continue reading আল-গাজ্জালির ‘তাহাফুত আল-ফালাসিফা’ নিয়া নোটস
প্লেটোর রিপাবলিক নিয়া একটু আলাপ
প্লেটোর রিপাবলিক, খ্রিস্টপূর্ব ৩৭৫ সালের দিকে রচিত একটা সক্রেটিক সংলাপ। এই বই আজ পর্যন্ত পাশ্চাত্যে যত রাজনৈতিক ও নৈতিক তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হইছে তার ভিত্তি হিসাবে দাঁড়াইয়া আছে। এইটা সক্রেটিস এবং আরও কয়েকজন কথোপকথনকারীর, বিশেষ কইরা প্লেটোর ভাই গ্লোকন এবং অ্যাডিম্যান্টাসের মধ্যে একটা আলোচনা । এইটার আসল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচারের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা এবং এইটা দেখা … Continue reading প্লেটোর রিপাবলিক নিয়া একটু আলাপ
কবিতার দিন শেষ হইছে, কবিতার দিন শুরু হইছে
কবিতার দিন শেষ হইছে। আবার কবিতার দিন শুরু হইছে। আমার কথার মধ্যে হেঁয়ালি আছে কিন্তু সামনে আগাইলে এর অর্থ ধরা কষ্টকর হইব না। আগে আশির দশকে যারা কবিতা লিখতে আসছিলো তারা বলতো বাংলাদেশে তারা কবিতাকে কবিতা থেইকা মুক্তি দিবে, তারা কেবল কবিতাই লিখবে। কেন তারা এমন কথা বলছিল? এর আগের দশকের কবিতা কি তাহলে কবিতা … Continue reading কবিতার দিন শেষ হইছে, কবিতার দিন শুরু হইছে
কাফকা
অকাল প্রয়াত আমার ভাই নাসরুল্লাহ আল বাকী স্মরণে
‘কবির নামাজ’ থেকে কয়েকটি কবিতা
কবিতার ভেতরে কবিতার ভেতরে গিয়ে আজান দিতে চাই।কিন্তু কোনো মসজিদ পাই না বলে ফিরে আসি।বারান্দায় গিয়ে আজান দিই 'আল্লাহু আকবর''আল্লাহু আকবর।'দূরে দাঁড়িয়ে থাকে- বিদেশি পাইনগাছ।বলে- যাও মিয়া, ঘরের ভেতরে যাওনিজের ঘরে গিয়া বিবিরে চুমা খাও।আমি নাছোড় বান্দা,আয়াতে বিশ্বাস করিকোরানের ভাষার মোজেজা বুঝি।আবার ‘আল্লাহু আকবর’ বইলাশাদা কাগজে কলম চালাই।এইবার একটা লাল মসজিদ খুলে যায়বাংলা শব্দ, বাক্য, … Continue reading ‘কবির নামাজ’ থেকে কয়েকটি কবিতা
“মায়া কমলাপুর” থেকে কয়েকটি কবিতা
হাশর আমিও হঠাৎ উড়ে পড়ব সীমান্তে। তপ্ত বালিসৌধেগুলিবিদ্ধ ডানা আর রক্তচক্ষু উজাড় করে দেখবোগুটি পোকার মতোন মানুষের ঢল, খাঁ খাঁ বায়ুস্বর,আত্মভোলা, মূর্তি-সেবীদের ঘুর্ণিনৃত্য, অগ্নিঘর । দেখবো আকাশ চূর্ণ হয়ে পড়ছে অবাক লোকালয়ে!যেন কার্পাসের ফুল, মাথায় রোদের ছুরি- জল,পানি দূর।তখন একাকী নিরিবিলি তোমার পাগল দুটি চোখ,হে গভীর বনভূমি থেকে ডানা ঝাপটিয়ে আসাবিস্ময় সুন্দর! আমাকে কি চোখ তুলে … Continue reading “মায়া কমলাপুর” থেকে কয়েকটি কবিতা
বুদ্ধদেব বসুর নজরুল বিচারঃ একটা বিলম্বিত জবাব
আবু সায়ীদ আইয়ুব থেকে শুরু করে, হুমায়ুন কবীর, বুদ্ধদেব বসু, কাজী আবদুল ওদুদ এবং হুমায়ুন আজাদ পর্যন্ত কেউই কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিভার মূল্যায়ন সঠিকভাবে করতে পারেন নাই বা তাকে তার যথযথ প্রাপ্যটুকু দিতে চান নাই। তার অনেকগুলি কারণ থাকতে পারে। কিন্তু যে জিনিসটি তাদের চোখে আর মনে পর্দা পরাইয়া দিছিল সেইটা হইল তাদের রবীন্দ্রপাঠ। … Continue reading বুদ্ধদেব বসুর নজরুল বিচারঃ একটা বিলম্বিত জবাব
সনেটগুচ্ছঃ রক্তপরদেশনামা
সনেটগুচ্ছ | আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ ১. (উৎসর্গঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত) অক্ষয় বাঙলা, তুমি স্বর্ণগর্ভ- সহস্র ভাষার! আরবি, ফারসি, তুর্কি, পুর্তগিজ, আর্য বা পাহাড়ি ভাষাভাব নিয়ে রঙ্গ করো, আলো নাচাও আশার। কত প্রাণ কত গান তোলো- মধুর রাগিনী ভারি। তোমার তো নাই লোকঘৃণা- জাতি, বংশ, কুল নিজেকে বিলিয়ে নির্বিচার কোলে নিয়েছ বিশ্ব। কিন্তু যদি … Continue reading সনেটগুচ্ছঃ রক্তপরদেশনামা
নফস কী ও নফস থেকে বাঁচার উপায়
নফস শব্দটি আরবি। নফস শব্দের অর্থ প্রাণ, আত্মা- যা সকল প্রাণির দেহেই বিরাজমান। নফস হলো সেই অলৌকিক বস্তু, যা মানুষের দেহে ফুঁ দিয়ে প্রাণের সঞ্চার করা হয়। অথবা নফস সেটাই যা আল্লাহ মানব দেহে ফুঁকে দিয়েছেন। মৃত্যুর সময় যা দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলছেনঃ- কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মউত। অর্থাৎ প্রত্যেক নফসকে … Continue reading নফস কী ও নফস থেকে বাঁচার উপায়
কয়েকটি প্রেমের কবিতা
আম্মা আম্মা চলে গেলে- সাদা কাপড় পড়ে থাকে আলনায়।তাকে দিয়ে কাঁথা বানিয়ে শুয়ে থাকি শীতরাতে।সারা কাঁথায় নাড়ি-কাটা রক্তের গন্ধ!না দেশ না সীমান্ত এমন ঠিকানাহারা দিনে‘ওবায়দুল্লাহ ওবায়দুল্লাহ’বলে- কে ডেকে ওঠে অন্ধকারে?প্রথম জন্মের মুহূর্ত- ফুল আর সৌরভের বাগান।সারা বাগানে একটানা গোলাপের কলরবঃ রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বি ইয়ানি সাগিরা। ভোরের মসজিদ সব ভাষা থেমে থাকে এইখানে।অথবা সব … Continue reading কয়েকটি প্রেমের কবিতা
বাংলাদেশে উত্তর আধুনিকতাবাদ চর্চাঃ একটা বোঝাপড়া
নব্বইয়ের দশকে কবিতা লেখার সময়ে আমরা উত্তর আধুনিকতাবাদ(Postmodernism) আন্দোলনের সাক্ষী হই। তখন এই আন্দোলন ইউরোপ থেইকা(১৯৬০), ভারত বর্ষ (১৯৭০-৮০) হয়ে বাংলাদেশে(১৯৯০), বিশেষ করে কবিতায় তার মৃদু প্রবাহ জারি রাখতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন যেমন- একবিংশ, লিরিক, নিসর্গ, সকাল ইত্যাদিতে এই আন্দোলন নিয়া লেখা কিছু গদ্য, ইন্টারভিউ, মতামত এবং কবিতা পড়ার সুযোগ হইছে। নবীন … Continue reading বাংলাদেশে উত্তর আধুনিকতাবাদ চর্চাঃ একটা বোঝাপড়া
জীবনানন্দ-ট্রমা
আধুনিকতাবাহিত যুক্তিনির্ভর, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধের বাইপ্রোডাক্ট- অপার শূন্যাতা ও নির্জনতাবোধ, অনিকেত জীবনভাবনা ও এক জোড়া ভ্রামণিক চোখের পাশপাশি, জীবনানন্দ দাশ বাংলা কবিতায় যে আরও একটা পালক যোগ করছেন, সেইটা হইল ‘জীবনানন্দ-ট্রমা’। গ্রামবাংলার নিসর্গে ক্ষণিক আত্মতৃপ্তির জিয়নকাঠি পাইলেও শেষ পযন্ত ‘লাশকাটা ঘর’ই তার কবিতার সাইকি। এখন আমাদেরকে দেখতে হবে এই রোগ তিনি পাইলেন কোথা থেকে? ট্রমা হইল এমন … Continue reading জীবনানন্দ-ট্রমা
সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের সাথে আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ’র কথোপকথন।
স্থান- সিডনি, তারিখ- ১৬ ডিসেম্বর, ২০১২। কবি সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ আর আমি একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করেছি। সে তো অনেকদিন হয়ে গেল। এখন আমরা দুজনেই অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে থাকি। সুব্রত এখানে প্রায় ১৬/১৭ বছর আর আমি এক যুগের একটু বেশি। পেশায় সুব্রত আই, টি স্পেশালিস্ট আর আমি এখানকার একটি কলেজের ইংরেজির শিক্ষক। সুব্রতকে … Continue reading সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের সাথে আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ’র কথোপকথন।
বাঙালি মুসলমান নারীর মন
বাঙালি মুসলমান নারীর মনের খোঁজ নিতে গেলে যার কথা সর্বপ্রথমে আমাদের মনে আসে তিনি হইলেন বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বেগম রোকেয়া ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে পড়া বাঙালি মুসলমান নারীদেরকে ভালো মুসলমান হিসাবে বাঁচার অধিকারটুকুর পরিবেশ তৈরি করে দিতে চাইছিলেন। তখন ভারতবর্ষের সকল ধর্মের সমাজ বিশেষ করে এর নারী সদস্যগণ শিক্ষায়, দীক্ষায় ও সামাজিক … Continue reading বাঙালি মুসলমান নারীর মন
আমার দ্বিতীয় কবিতার বই–বাল্মীকির মৌনকথন(১৯৯৬)
আমার দ্বিতীয় কবিতার বই- বাল্মীকির মৌনকথন বের হইছিল ১৯৯৬ সনে। এই বইয়ের অনেক কবিতাই কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেন সম্পাদিত লিটল ম্যাগ ‘একবিংশ’ তে প্রকাশিত। এর আগের বছর ‘শীতমৃত্যু ও জলতরঙ্গ’(১৯৯৫) বের হইছিল। পাঠক এর আগের একটা পোস্টে আমার প্রথম বইয়ের কবিতার চরিত্রগুলি হয়ত খেয়াল করেছেন। প্রথম কবিতার বইতে আমার ‘আমিকে’ চূর্ণ আয়নায় দেখা এবং ব্যক্তিগত … Continue reading আমার দ্বিতীয় কবিতার বই–বাল্মীকির মৌনকথন(১৯৯৬)
সাম্প্রতিক লেখা কিছু কবিতা
মায়ের মুখ কোথাও একটা রৌদ্র পড়ে আছে মায়ের মুখের মতো। ব্রিজ ভেঙ্গে পাখি তো উড়ল, হাত থেকে সরে গেল গলিপথের বাবলা। হাতি চলে, হাতি চলে সমস্ত পাড়া গাঁ সিরাজ হয়ে যাওয়ার গান। দেখি কোলাকুলি করছে কলকাতার ঝাউগুলো। নিচে নেমে যায় হালকা চালের গীতিময় সন্ধ্যা। বাড়িতে এলেই- বাবা তুই ভাত খাবি? অপেক্ষার ছায়াগুলো গোলাপ গাছের চারা। … Continue reading সাম্প্রতিক লেখা কিছু কবিতা
কান্টের দর্শন, নন্দনতত্ব ও কবিতা
জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের দর্শনের ভিত্তিমূলে আছে ট্রান্সেন্ডেন্টাল আইডিয়ালিজম। বাংলায় যাকে সজ্ঞালব্ধ(অতীন্দ্রিয়) ভাবাদর্শ বলা যাইতে পারে। এই ভাবাদর্শকে ভিত্তি করে পরে আর এক জার্মান ভাবাদর্শের হেভিওয়েট দার্শনিক হেগেল তার বিখ্যাত ‘ফেমেনেলজি অব স্পিরিট’ বইতে এইটাকে নতুন মাত্রা দেন। ট্রান্সেন্ডেন্টাল ভাবাদর্শ মন এবং বস্তুর মধ্যে সম্পর্ক বিষয়ে একটি তত্ত্ব। তিনটি মৌলিক থিসিস এই তত্ত্বটি তৈরি করেঃ … Continue reading কান্টের দর্শন, নন্দনতত্ব ও কবিতা
জন্মদিনে পাওয়া শুভেচ্ছাগুলো
কবি আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহর জন্মদিনে শুভেচ্ছা সৈয়দ নাজমুল করীম আজ ৯ সেপ্টেম্বর, কবি আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহর শুভ জন্মদিন । কবিতায় তাঁর নিমগ্ন যাত্রা আশির দশকের শেষের দিকে শুরু হলেও, পরিচিতি ও বিকাশ নব্বইয়ের দশকেই । নব্বইয়ের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল কবিদেরই অন্যতম তিনি । তাঁর কবিতার বিষয় যা-ই হোক, লক্ষ্য করেছি; - অলঙ্করণ ও ভাষা স্বাতন্ত্রের … Continue reading জন্মদিনে পাওয়া শুভেচ্ছাগুলো
বাঙ্গালি মুসলমান কবি
আমি বাঙ্গালি মুসলমান কবি আমার সামনে ঝুলে রবীন্দ্রনাথের ছবি। বলে- তুই এত দিওয়ানা হলি ওরে ও মুসলমান কবি! আমি বলি- আমারে একটা নাম দেন ওহে শান্তিনিকেতনী পির। বন্ধক রাখেন তরবারি- ধনুক ও তীর। আমাকে কবিতাভাষা দেন নদী নদী। আমি যেন মাছ হই- মাছের শিকারি। আমার উঠোনে জাগে নিমগাছ তার ফুল ছাড়ে আজব কস্তরি ঘ্রাণ আমি … Continue reading বাঙ্গালি মুসলমান কবি
আমি ও ২২শে শ্রাবণ
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ বাইশে শ্রাবণ আসলে পরে একটা রবীন্দ্রনাথ আমার পাশে বইসা থাকে। আমার গরুর মাংস খাওয়া দেখলে তিনি চইলা যান না বা আমার ‘আল্লাহু আকবর’ বইলা আজান দিলেও রাগ করেন না। তিনি আমার মুখের দিকে তাকাইয়া থাকেন। আমি- সোনার তরী, গীতাঞ্জলি, নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ- এইসব কবিতা আবৃত্তি কইরা শোনাই। রবীন্দ্রনাথের পিপাসা লাগে। আমি পানি আইনা … Continue reading আমি ও ২২শে শ্রাবণ
আমার বইগুলো
প্রকাশিত বইকবিতাঃনতুন পাণ্ডলিপির দিনে [বৈভব ২০২০]কবিতাসংগ্রহ [মেঘ ২০১৯)সিজদা ও অন্যান্য ইসরা [চৈতন্য, ২০১৬]ক্রমশ আপেলপাতা বেয়ে [চৈতন্য, ২০১৫]নো ম্যানস জোন পেরিয়ে [শুদ্ধস্বর, ২০১২]জল্লাদ ও মুখোশ বিষয়ক প্ররোচনাগুলি [নিসর্গ, ২০১২]শাদা সন্ত মেঘদল [নিসর্গ, ২০১১]গানের বাহিরে কবিতাগুচ্ছ [নিসর্গ, ২০১০]পলাশী ও পানিপথ [নিসর্গ, ২০০৯]বাল্মীকির মৌনকথন [জুয়েল ইন্টারন্যাশনাল, ১৯৯৬]শীতমৃত্যু ও জলতরঙ্গ [জুয়েল ইন্টারন্যাশনাল, ১৯৯৫]গদ্যঃ কবিতার ভাষা [চৈতন্য, ২০১৬]গল্পঃ বন্ধুর মৃত … Continue reading আমার বইগুলো
‘ইসলামি আবহে মুসলমানি ঐতিহ্যের’ কবিতা
প্রিয় পাঠক, আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন- আমি মাঝে মধ্যে ‘ইসলামি আবহে মুসলমানি ঐতিহ্যের’ কবিতা লিখি। সেই কারণে আমার শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ আমাকে ‘সাহসী কবি’ বলেন। তারা আমাকে ‘সাহসী’ কেন বলেন- চিন্তা করে দেখি। আগে কখনো আমাকে এমন ভাবে বলা হয় নাই। তার মানে আমার কবিতায় একটা পরিবর্তনের সুর তারা আবিষ্কার করতে পারছেন। কী সেই … Continue reading ‘ইসলামি আবহে মুসলমানি ঐতিহ্যের’ কবিতা
বিষয়ঃ ম্যাকবেথের মন
মধ্য আশির দশকে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ার সময়, আমাদেরকে রোমান্টিক কবি- জন কিটস, শেলি, বায়রন, এবং আধুনিক এলিয়ট, ইয়েটস, ডিলান টমাস, ফ্রস্ট ইত্যাদি পড়ার সাথে সাথে জিনিয়াস শেক্সপিয়ারও পড়তে হইত। শেক্সপিয়ারের চারটা ট্রাজেডি আমাদের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল- হ্যামলেট, ওথেলো, কিং লিয়ার ও ম্যাকবেথ। সত্য যে তখন শুধু পড়ার জন্য পড়তাম, পরীক্ষা পাশের জন্য অথবা … Continue reading বিষয়ঃ ম্যাকবেথের মন
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহর সাথে হোসেন মোফাজ্জলের কথাবার্তা
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ : অনেকদিন হইলো আমাদের দেখা হয় না। একবার আমরা সিদ্ধান্ত নিছিলাম যে আমরা এক সাথে বসবো, সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করবো। সময় আর সুযোগ হয়ে উঠে না তাই পারি না। ঈদ উপলক্ষ্যে আজ একটু এক সাথে হইতে পারছি। তাই আশা করি কিছু কথাবার্তা বলা যাবে। কেমন আছেন? হোসেন মোফাজ্জল : ভালো আছি। ঠিক … Continue reading আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহর সাথে হোসেন মোফাজ্জলের কথাবার্তা
আসল রুমির সন্ধানে
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ পাশ্চাত্য(ওয়েস্ট) ও প্রাচ্যে(ইস্ট) রুমি-পাঠ একটা হটকারি গ্লাসের মাধ্যমে দেখা ওরিয়েন্টালিস্ট পাঠ। এতে কাজ করেছে পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত ভাষা-বুদ্ধিজীবীরা। জাক লাঁকা বলেছেন ভাষার বাইরে কিছুই নাই। শক্তির কেন্দ্রে থাকা মানুষ নিজের ভাষাকে অপরের ভাষা বানিয়ে ফেলে, নিজের চিন্তাকে অপরের চিন্তা বানিয়ে ফেলে। রুমির অনুবাদেও সেই রকমের ঘটনা ঘটেছে। এটি যারা করেছেন তারা নিজের ভাষাকে … Continue reading আসল রুমির সন্ধানে
আয়নালেখা- আমার লেখা গানকবিতার খাতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ
২০০৯-২০১০ সালের দিকে আমার জীবনে একটা অন্যরকমের বোধিপ্রাপ্তির ঘটনা ঘটছিল। সেই বোধিপ্রাপ্তি গানকবিতা লেখায় আমাকে নিয়ে যায় এবং আমি সে মোতাবকে কিছু গানকবিতা লিখি। প্রায় এক যুগ আগে লেখা গানকবিতাগুলি আজ এখানে প্রকাশ করলাম। প্রিয় পাঠক কেউ যদি মনে করেন সুর তুলবেন, গাইবেন তাহলে আমার অনুমতি সাপেক্ষে স্বাগতম। কপিরাইটঃ আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ । ১ … Continue reading আয়নালেখা- আমার লেখা গানকবিতার খাতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ
কবিতার ফর্ম, স্ট্রাকচার, টেকনিক ও ভাষা
কবিতার ফর্ম, স্ট্রাকচার ও ভাষা - এই তিনটির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হলে আমরা একটি বাড়ির কথা চিন্তা করতে পারি। সমস্ত বাড়িটি হলো কবিতার ফর্ম, বাড়ির রুমগুলি হলো স্ট্রাকচার আর ফার্নিচারগুলি হলো কবিতার ভাষা। কবিতার পড়াশোনায় কবিতার ফর্ম, স্ট্রাকচার ও ভাষা পর্যবেক্ষণ করার সাথে সাথে আমাদের দেখতে হবে এগুলো কীভাবে কবিতার ভালোলাগা ও বোঝার সাথে জড়িত। … Continue reading কবিতার ফর্ম, স্ট্রাকচার, টেকনিক ও ভাষা
কবিতার ভাষার দিকে পৌঁছানো
কবিতায় জোর চলে না, কবির ওপর জোর চলে। মানে কবি ইচ্ছা করলে নতুন ভাষা শিখতে পারে, নিজের পড়াশোনা বাড়াইতে পারে, সাথে সাথে তার রুচিবোধও চেইঞ্জ করতে পারে। কোনো শিল্প সৃষ্টি- ইমানুয়েল কান্ট কথিত ‘প্রায়োরি’র মতো- মানে এই বোধ স্বয়ংসম্পূর্ণ, কোনো রকম শর্ত সাপেক্ষহীন। এই বোধ কবি যেখান থেকেই পাক না কেন- এইটা আগে থেকেই জেনিটেকেলি … Continue reading কবিতার ভাষার দিকে পৌঁছানো
গল্পের বই থেকেঃ বন্ধুর মৃত স্ত্রী
বন্ধুর মৃত স্ত্রী স্ত্রী মারা গেলে সে কি আর স্ত্রী থাকে বা তার সাথে কিরকম সম্পর্ক হয় যখন সে শুধু মাটির সম্পত্তি। বেঁচে থাকা সময়ে যে কাছাকাছি ডাকাডাকি আলোঅন্ধকারে দেখাদেখি দিনেরাতে হয় এখন এমন তো কিছু আর হয় না। মানে শরীরী থাকা ছাড়া সম্পর্কটা কেমন হয় কোনো যোগাযোগ কি ঘটে যা উপস্থিতির সাথে সম্পর্কযুক্ত। অথবা … Continue reading গল্পের বই থেকেঃ বন্ধুর মৃত স্ত্রী
বই থেকেঃ নতুন পাণ্ডুলিপির দিনে
সালাম বাংলা সালাম বাংলা, তোমাকে নিয়েছি গুপ্ত ডালিমে স্কুলের টেবিলে, গোসলের অতি গরম পানিতে। জনকলরব, লোহার পাথর, খানসেনা আর পলাশী সিরাজ, ইমাম হোসেন কারবালা খঞ্জরে! যেন বা আমার কলিজা তোমার যেন বা তোমাকে দিয়েছি হাজারো পানিপথ! তোমার শুধুই জয় হোক- ওগো অক্ষয় হিমালয়! তুমি কি শুধুই সীমানা ছাড়াবে- রক্ত লেগুনে? কী চাও শিকারি ভাষায় গোলাপ … Continue reading বই থেকেঃ নতুন পাণ্ডুলিপির দিনে
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ’র কবিতা: শব্দজাদু বিকিরণের দেশসমূহ
সারওয়ার চৌধুরী দেশ আছে ভিতরে, দেশ আছে বাইরে। ভিতরের দেশেও দেশসমূহ, বাইরের দেশেও দেশসমূহ। কবির চিন্তা প্রক্রিয়ার দেশে, চোখে পড়ে, শুধু কবি কর্তৃক প্রজেকশন করা দেশসমূহ থাকছে না। পাঠকেরও অ্যালেথিক নেটওয়ার্ক এসে অর্থসমূহের মহাদেশ নির্মাণ করে। শব্দেরা নিয়ে আসে অনুভূতির প্রিয়তর উত্সব। ভাষার দৌলতে বিস্ময়কর দৃশ্যসমূহের উন্মোচনও করেন কবি। অন্য প্রকার উদ্বোধন তো থাকছেই।আবু … Continue reading আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ’র কবিতা: শব্দজাদু বিকিরণের দেশসমূহ
আম্মা
আমার আম্মা চলে গেছে দশ বছর আগে! আম্মার মতো কেউ কি ফিরে আসে দশ বছর পরে? এ তো এক শূন্য ধাঁধা। ভেতরে প্রকাশ করে ভেতরেই থাকা। তবু যে কোনো দরোজার দিকে তাকিয়ে থাকি। আম্মা কি দাঁড়িয়ে আছে চোখ ভরা মায়া! বলছে ফিরে কি আসবি না ছেলে, হাজারিবাগ, মনেশ্বরে? যেখানে তোর ঘুড়ি বাঁধা আছে বাবুলদের … Continue reading আম্মা
কবি বারীন ঘোষালের সাথে এক সন্ধ্যা
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রয়াত কবি বারীন ঘোষাল সিডনি বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি এসে রাতেই আমাকে ফোন করে তার বাসায় আমন্ত্রণ জানান এই বলে - সাঈদ চলে আসো, আলাপ করবো। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর আমি আমার ক্লাস শেষে, ট্রেনে করে তার বাসার দিকে যাত্রা শুরু করি। বাসার সামনে গিয়ে দেখি আছরের নামাজের টাইম হয়ে গেছে। কোথায় … Continue reading কবি বারীন ঘোষালের সাথে এক সন্ধ্যা
একটি কবিতার জন্ম
কবিতা যে কষ্ট কল্পিত সৃষ্টি নয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কষ্ট কল্পিত কবিতা প্রাণহীন, বিরক্তিকর। আর যে কবিতা- স্থান, কাল, পাত্র, স্মৃতি, ঘটনা, অভিজ্ঞতা, অনুভূতির সংশ্লেষণে গড়ে ওঠে তা হয়ে ওঠে জীবন্ত। তবে সত্যিকারের কবিতা যে কীভাবে আসে তা বলা মুশকিল! কারণ একটি কবিতা জন্মের ইতিহাস এক এক কবির কাছে এক এক রকম। … Continue reading একটি কবিতার জন্ম
মাতাল তরণি
অনুবাদ: আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ অসাড় নদীর ভেতরে ঢুবে যাওয়ার সময় আমি আর টের পাইনি আমাকে টানছে কোনো বাঁধন উজ্জল লাল চামড়া নিয়ে গেছে বণিকদের লক্ষ্যে রঙিন কাঠের খুঁটিতে গেঁথে তাদের নগ্ন। আমি উদাসীন আমার নাবিকদের প্রতি যারা বহন করছিল ফ্লেমিশ গম বা ইংলিশ তুলো যখন বণিকদের সব গর্জন থেমে গেল নদী আমাকে ভাসিয়ে … Continue reading মাতাল তরণি
‘কবিতাসংগ্রহ’ এর ফ্ল্যাপ থেকে
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ’র কবিতা মাল্টিলেয়ারড, কেন্দ্রহীন, কখনো বিমূর্ত বা পরাবাস্তবতার টেক্সচারে রচিত। তাই তার কবিতা প্রথম পাঠেই উন্মোচিত হয় না সহজে, পাঠকের আরো একটু সময় করে পড়ে নিতে হয়। তখন ধীরে ধীরে তার অবগুন্ঠন ভাঙতে থাকে আর আমরা বিস্ময়ে তার কবিতায় অবগাহন করতে থাকি। সাঈদের কবিতা বদলেছে বহুবার। বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় তার কবিতা স্বদেশের শিকড়জুড়ে, … Continue reading ‘কবিতাসংগ্রহ’ এর ফ্ল্যাপ থেকে
এবাদতনামাঃ নতুন কবিতাপথের যাত্রাবিন্দু
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ (অনেকদিন পর একটি কবিতা বইয়ের ওপর ক্ষুদ্র আলোচনা করলাম। কবিতার বই- 'এবাদতনামা' লিখেছেন বাংলা কবিতার হেভিওয়েট কবি ফরহাদ মজহার। কবিতাগুলি পড়তে গিয়ে আমি যেরকম মনে করেছি তাই লিখেছি। তাৎক্ষণিক আলোচনা বলা যায়। পাঠক আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ) । ফরহাদ মজহার ষাটের দশকের কবি। তার উত্থান ষাটের দশকে কিন্তু বিকাশ ও পরিণতি ষাটের পরবর্তী … Continue reading এবাদতনামাঃ নতুন কবিতাপথের যাত্রাবিন্দু
কবিতায় বিশ্বাস,ধর্ম বা ধর্মীয় অনুষঙ্গ ব্যবহার করা বিষয়েঃ
আধুনিক কবিতা ব্যাধির কবিতা, একাকিত্ব, বোরডোম, হতাশা আর নিরাশার কবিতা। সে জীবনকে দেখেছে একচক্ষু হরিণের মত, তার নেই স্থিতিস্থাপকতা। নেই শক্তি জীবনের বিবিধ টোনকে লালন করার, নেই গভীরতা জীবনের বাইনারি অস্তিত্বকে ধরার। তাই আধুনিক কবিতা অসম্পূর্ণ, রুগ্ন। সে চায় বদ্ধ ঘরে একা শুয়ে থাকতে, তার নিজেরই অসুস্থ আত্মাকে বারবার দেখতে। সে বিশ্বাসকে ভয় পায়, কারণ … Continue reading কবিতায় বিশ্বাস,ধর্ম বা ধর্মীয় অনুষঙ্গ ব্যবহার করা বিষয়েঃ
দেয়ালের পাশে
১ মেলেছে লুলুখেলা শান্ত পৃথিবীতে। কিসব পাগলভাষা, রক্তবুলি প্রজাদের দ্বীপে! আমাকে কাটে নিরিবিলি সাপ আর নেওলে। ২ দুধারে কি ফুটছে হামিশ? শীতে লিখে রাখি হুদ পাখির নাম। যেন গলা চিনে আনে সুলায়মান পয়গম্বর! ৩ হায় আল্লাহ আমি কী করি এখন? তামাম আমি ডাকছি মায়ের দুপুরে! কিভাবে তোমার স্মরণ কাটে কিভাবে অকৃতজ্ঞ থাকে মাটি ও মানুষ! … Continue reading দেয়ালের পাশে
যমজ কবিতা
পানিপথ রিটার্নস অনেক আগুন নিয়ে জল হয়েছি। নদী এসে একটি মেয়ের মুখ- ঘুমন্ত সাম্পান। পাশা খেলাও শেষ। পালিয়ে দরবেশ সেজেছে বহুপীরের ডাকাত। আর দূরে ফোটা ছাতিম গাছ লিখছে তুষার পড়ার সন্যাস! মানুষেরা বালি মাখছে কয়েদিপায়ে এতদিন পায়ে পায়ে শেকলের ভাষা হিংসার রঙ- ডালিম ফাটানো লাল। স্বপ্ন ধনুক, স্বপ্ন চুনারুর লেলিহান খাঁজ। রোদের চুমুক এখন … Continue reading যমজ কবিতা
‘সিজদা ও অন্যান্য ইসরা’ কবিতা বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে
কবির চেতনাপ্রবাহে থাকে কবির কাল, কবির মানস ও ভূ-বাস্তবতা। থাকে জন্ম, মৃত্যু, সৃষ্টি আর স্রষ্টা-ধারণা সম্পৃক্ত বিষ্ময়। সেখানে চলে পরম সত্তাকে চেনা ও জানার, আশা ও নিরাশার ভ্রমণ, যুগপৎ শান্তি ও রক্তপাতের চাঁদমারি। কিন্তু সবকিছুর পরে কবির উপলক্ষ ভাষা মানে কবিতার ভাষা। সেই ভাষা ধরে, কবিতার গ্রাউন্ড তৈরি হয়। সেই জায়গাতে দাঁড়িয়ে কবি আবু সাঈদ … Continue reading ‘সিজদা ও অন্যান্য ইসরা’ কবিতা বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে
’সে’ সর্ম্পকিত সমস্ত ধাঁধা
ভারি মেঘ জমেছে জানালার কিনারে তার দাঁড়ানো কলসের আকার! পর্দার আড়ালে আরো চিত্রিত দুধ দুধের চাকু -বুক বরাবর। এরকম একলা রোয়া ওঠা লাল সবুজ পেঁপেতে মাছি আর ভোঁ ভোঁ হিংসাখেলার বাঁশি। এভাবে সীমানা যখন উন্মুক্ত এক নখদন্তহীন বাঘ বসল মায়াবিড়ালে! ## কোথাকার কোন জল কোথায় এসে লাগল শান্ত হাতের খনি- রক্ত দেজাভুঁ! গড়িয়ে নামছে … Continue reading ’সে’ সর্ম্পকিত সমস্ত ধাঁধা
পাঁচটি কবিতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ
ভবিষ্যৎ ২০১৬ সাল বা তার পরের কবিতায় রক্ত শব্দটি অনেক বার বলা হবে যেমন পিরহান মাছ যেমন ব্রিজপার খুলে সৎ মেয়েদের গোসল আরো আরব আসবে আরো জুলফিকারের ভেতর পীর একটি পাখি। একটি সঙ্গীত কতো দূর বেজে আবার রক্তপাতের চিঠি! বন্দি করে থাকবে শাহজাহান তার পুত্র দারাশিকোহ তারা জেনে যাবে শাহজাহান অমরত্ব চায় না নূরজাহানে একটি … Continue reading পাঁচটি কবিতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ
The art of floating
উত্স: The art of floating
The art of floating
(For the little boy Aylan) Floating on the ocean-ripples gives you a feeling of lightheadedness or a vision of a dervish. Because everything is so balanced and mysterious under the water! Or what about your face-down game. You see- your body is a fish, hanging in the sea-air. That’s great resurrection moment! You know. … Continue reading The art of floating
Thirty Poems by Abu Sayeed Obaidullah
Thirty Poems_Abu Sayeed Obaidullah
লাল গুলির দোস্তানা
কিনারা জলমেয়েদের আবলুশে জেগে থাকি তুমি কাক তুমি পক্ষী উড়িয়ে আনো ভাত কুড়ানোর ধী। গানের পাখিরা বেহালা করছে অবিরত তবুও আমি আর জাগবো না জেনে রাখো। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভাষা খুঁজি হা গোলাপ হা জবা--গুচ্ছ তিতির গুঁজে দিই জলবনহুরের ছাতিতে। শাদা তিমির উপমা আজ এই ভোরের সকাল ঘুমের কাঁকড়ারা জরায়ুতে লুকায় তুলতুলে মাছবাচ্চাদের। এখানে বালির … Continue reading লাল গুলির দোস্তানা
আমি যেমন আমার নই, সে অর্থে কবিতা আমার ভাষার কিছু নয়
কবিতা রচনা যে একটা হাতের কাজ নয় তা সত্য হয় যদি আমরা ভাষার বাইরে গিয়ে দাঁড়াই। হাতের কাজ একটা টুল, একটা শারীরিক সঞ্চালন মাত্র। কবিতা নব্বই ভাগই মনোজাগতিক, দশ ভাগ হাতকারুপণ্যগিরি। এখানে হাতের কাজ ততটুকু যতটুকু শুধু একটা কাঠামো দাঁড় করার জন্য প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু একটা বিজলি চমকানোর মত যদি আকস্মিক হাজির/নাজিল না থাকে বা … Continue reading আমি যেমন আমার নই, সে অর্থে কবিতা আমার ভাষার কিছু নয়
ছুটির দিনে
জমেছে জেরুজালেম এক গাছের ডালে তার কেন্দ্রস্থানে মায়াবী ঈসা। তুমি দম নাও তোমার ক্যামেরা থেকে পাথর ছোড়াদের খুনিমুখ। তোমার কি আজ জন্মগ্রহণ? তোমার কি তারাদের বনে কাঠুরিয়াদের গান? তাই করো একটা চোখ লুকিয়ে রাখো আর ঝিল্লি দিয়ে ঢুকে পড়ুক জুডাসের হাত! **** কিছু মাছ আটকে আছে কিছু মাছ তীরে এসে জেনিফারের চোখ; তার লম্বা বাবুই … Continue reading ছুটির দিনে
কুফা- সাদি ইউসুফ
সাদি ইউসুফ (১৯৩৪-) কবি সাদি ইউসুফের জন্ম ইরাকের বসরা শহরে, ১৯৩৪ সালে। ইরাকের আর এক শক্তিশালী কবি বদর শাকির আল সাইয়াব তাকে প্রভাবিত করেছেন। পেশায় শিক্ষক ও সাংবাদিক। ১৯৭৯ সন থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যেমন সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, ফ্রান্স ঘুরে বেড়িয়েছেন। বর্তমানে লন্ডনে বাস করছেন। একাধারে কবি, গল্পকার, অনুবাদক, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক। তার ত্রিশটির মতো কাব্যগ্রন্থ … Continue reading কুফা- সাদি ইউসুফ
এক পাতার সিঁড়ি: একটা কবিতা যেভাবে লেখা হলো
সাদা পাতা আমার সামনে ঘুরাঘুরি করে। ক্লাসে, লাইব্রেরি, রেস্টুরেণ্ট, বাজারের লিস্ট আর ট্রেনে জানালার বাইরে। আমার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা দেয়। এখন এই যে আমার সামনে সে পা ছড়িয়ে বসে আছে, তাক করে তাকিয়ে আছে- একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে যেন। একদিন, দুইদিন সাতদিন যায় সে আমার পিছু ছাড়ে না। আমার বিছানায়, আমার পায়ের কাছে বসে … Continue reading এক পাতার সিঁড়ি: একটা কবিতা যেভাবে লেখা হলো
এক পাতার সিঁড়ি- মৃত(আধুনিক)কবিতা
আধুনিক কবিতা- নিরীশ্বর, বিশ্বাস হারানো মানুষের কবিতা। যেন ফ্রয়েড কথিত মানসিক প্রতিবন্ধীদের চোখে দেখা এক বিকলাঙ্গ পৃথিবী। অহঙ্কার, আত্মশ্লাঘা, পাপাচার, ব্যভিচার ইত্যাদির মতো সুস্বাদু অন্ধকার যার অনিঃশ্বেষ চারণভূমি। এখানে কবিদের পরিপ্রেক্ষিত বন্ধ্যা, দুঃখদুষ্টে ক্লিন্ন, কষ্ট জর্জর, স্বমেহনের মতো আত্মক্ষয়ী রুগ্নতা আর গ্লানিতে পূর্ণ। আধুনিক কবিরা এমন এক অসুখে নিজেদেরকে সঁপে দিয়েছেন যেখানে শয়তানও যেতে ভয় … Continue reading এক পাতার সিঁড়ি- মৃত(আধুনিক)কবিতা
এক পাতার সিঁড়িঃ না-ভাষার কবিতা
ভাষা যেমন কবিতার বাহন তেমনি ভাষা কবিতার ভারও। আমরা যা ভাবি বা যা তৈরি করতে চাই তা একটি ভাষার আবহে রাখি। কিন্ত কখনো চিন্তা করি না যে ভাষা সব কিছুই প্রকাশ করতে পারে না। কবিতা তো নই। আমরা হাজার বছর ধরে যা ভেবে আসছি তা কেবলই একটি তৈরি ভাষার ছাঁচে লেখা। হাজার বছর ধরে থাকা … Continue reading এক পাতার সিঁড়িঃ না-ভাষার কবিতা
দুটি কবিতা
তোমাকে দেখে দেখে তোমাকে দেখে দেখে গুলি করার কথা ভুলে যাবো এই প্রহরীদিবসে সকালের জেলখানা- নদীপথের ফুল। বোতাম খুলে আজ সবটাই দেখব চরাচরে হাঁসের মৌসুম বোকাদের ব্রিজ, এইসব অতি কমলাফল! তোমাকে দেখে দেখে আজ কবর দিয়েছি বীরবাহুদের। রণক্ষেত্র শূন্য পথে পথে মাদুর খুলছে আর ঝাণ্ডা উড়ছে স্মৃতি-পালকদের। আহা আমার শহীদপ্রতিভা আজ আলোস্তন হয়ে বিছানায় ফুটলো … Continue reading দুটি কবিতা
ঘুমঘোর কবিতার ক্যাফে’র সাথে আমার কথোপকথন
(কিছুদিন আগে ফেসবুক ভিত্তিক কবিতার পাতা ঘুমঘোর কবিতার ক্যাফের সাথে আমার কিছু কথোপকথন হয়। অনেকের অনুরোধে পুরো কথোপকথনটি এখানে আপলোড করা হলো। কৃতজ্ঞতা: ঘুমঘোর কবিতার ক্যাফে।) ১। ঘুমঘোর: কবি হয়ে ওঠা কি আপনার মোক্ষ না বাধ্যবাধকতা? কবি না হলে আক্ষেপ হতো? আপনার কবি হয়ে ওঠার ব্যক্তিগত জার্নিটার কথা আমাদের জানান। আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ: মোক্ষটাই আসল। … Continue reading ঘুমঘোর কবিতার ক্যাফে’র সাথে আমার কথোপকথন
তিনটি কবিতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ
নতুন পাণ্ডলিপির দিনে মোরগের জায়গায় লাল ঝুল বারান্দায় তন্দ্রাতারা, ফুল। ছদ্মঝর্না, মার্বেল গোল মেয়েদের তমাল। ঠেলে ঠেলে উঁচিয়ে আসছে কলম্বাসের জাহাজ তাতার এই মানুষরূপ চাঁদ চাঁদ মাছেদের ছায়াসাঁতার। সূর্যলেখা জমছে আগামীদের কবরে শব্দের ভেতর শব্দ, প্রস্তরের ভেতর প্রস্তর উইডিবি, একটা একটা ফুলগাঁথা একটা একটা নিকোটিনের ঠোঁট ছড়িয়ে পড়ছে লুকানো বিবাহের যোনিফুলে। ৬/১১/২০১৪ অন্ধকারে রক্তনাশের পরও … Continue reading তিনটি কবিতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ
তুর্কী কবি সামি বায়দারের চারটি কবিতা
সামি বায়দার (১৯৬২-২০১২) জীবিতকালে প্রায় অস্বীকৃত, অকালপ্রয়াত তুর্কী কবি সামি বায়দার এর কবিতাপাঠ পাঠকের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। আশি আর নব্বই দশকে যে কয়েকজন কবি তুর্কী কবিতার নতুন ভাষার পথ মেলে ধরেন তাদের মধ্যে দু'জন কবির নাম খুবই উল্লেখযোগ্য। তাঁরা হল- সায়হান এরোজসেলিক আর সামি বায়দার। দুজনই অকালপ্রয়াত, পঞ্চাশ ছুঁতে না ছুঁতেই প্রয়াত(আধুনিক তুর্কি কবিদের … Continue reading তুর্কী কবি সামি বায়দারের চারটি কবিতা
মেয়ে কবিদের কবিতায়
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ মেয়ে কবিদের কবিতায়- অতি বিশেষণের ভার দেখে আমার চিড়িয়াখানার হাতি আর একটা বিষহীন বোকা অজগরের কথা মনে আসে। ওরা কী সহজে 'নীলাভ আকাশ' আর 'শীতার্ত সন্ধ্যা' মেখে দেয় বুকের দুধ-মমিতে। আর্শ্চয্য! তারা ভাবতেই পারে না যে- এইসব নিরাপদ আলো আর আলেয়ার বাইরে- আরো কিছু গাছ আর গহন খুলে হাতের কামিলে! আরো … Continue reading মেয়ে কবিদের কবিতায়
বিচ্ছিন্নতাবাদির কবিতা
বিচ্ছিন্নতাবাদির কবিতা ১ বিচ্ছিন্নতাবাদিদের মুখ পরে আছি লৌহতারকাদের বনে গুলি ফুটছে, খা- খা সীমান্ত ছেনে রক্তপিপাসুর ক্যামেরা। দুরে লাল দেখা যায়- ট্রিগার চেপে গোলাম হয়ে আছে বন্ধুর রাইফেল! আমি ফাঁদে আটকানো শিকার হা করে আছে শত্রু কবলিত রণক্ষেত্র! জমে বেয়নেট-মুখ, দলত্যাগীদের প্যারাসুট পাড়া আর পড়শির হারেমে- দিল চমন অ্যান্টেনা। ঠিকানা বদলাই- তিতির ও তন্দুরে রাখি … Continue reading বিচ্ছিন্নতাবাদির কবিতা
প্লেটো- কবিতার ভিলেন!
এটি একটি আজব প্যারাডক্স যে প্লেটো নিজে একজন খাস কবি হয়েও তার আদর্শ রাষ্ট্র থেকে কবিতাকে বিদায় করেছেন। তার ‘ডায়ালগস’ তো কাব্যিক মাল মসলায় ভরপুর! কিন্তু প্লেটোর সত্যের প্রতি প্রায় মৌলবাদি দৃষ্টি আর আদর্শ রাষ্ট্রের উপর তার অন্ধ বিশ্বাসের কারণে কবিতা হয়ে গেছে একটি অকেজো শিল্প। তিনি মূলত বিশ্বাস করেন যে, শিল্প সময় সময় অনুকরণের … Continue reading প্লেটো- কবিতার ভিলেন!
পল এলুয়ারের দুটি কবিতা
জানালায় আমার কখনোই কোনো নিশ্চয়তা ছিলো না, ছিলো না কোনো নিরাশা-যা নিশ্চিত করে বলে দেবে আমাদের ভেতর শ্রেষ্ঠ কে। এমন সময় ছিল যখন আমার বন্ধুরা আমাকে নিয়ে হাসত। আমি আমার শব্দের প্রভু ছিলাম না। এটি একটি উদাসীনতা আসলে, আমি অনেক সময় ভালো করে জানতাম না- যে আমি কী বলতে চাই। কিন্তু অনেক সময় এটি হত … Continue reading পল এলুয়ারের দুটি কবিতা
কবিতার দায়বদ্ধতা
কবিতার দায় কবিতার অঙ্গীকার এসব কথা বেশ চালু আছে। আছে একটি সামাজিক দায় মেটানোর দাবি। তাকে আমরা দেখি বা না দেখি, স্বীকার করি বা না করি, সেটি পাঠকের দরবারে বেশ ঝেঁকেই বসে আছে।।সেই মোতাবেক প্রশ্ন আসে- কবিতা একটি শিল্প মাধ্যম হিসাবে আমাদের কাছে কীভাবে দায়বদ্ধ? আসলেই কি কবিতার কোনো দায়বদ্ধতা আছে? এটি কি শুধু ভাবের … Continue reading কবিতার দায়বদ্ধতা
কবিতাগুচ্ছ- সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ
আমার কবিতা সুস্থতা আমি চাই না। সুস্থ হৃদয় শুধু সাদা সাদামাটা, যেন মুখোমুখি বসানো দু’খানি আয়না, বড় হিম, সান্নাটা- আমার কবিতা অন্ধকারের হায়েনা। (সিডনি, ২০০৫) হা-খোলা আকাশের নীচে লৌহযবনিকা উঠে গেছে, প’ড়ে গেছে ঘরের দেয়াল, আমরা খোলা আকাশের নিচে খোলা রোদে লাল। পাঁজরের বর্ম মাখন পুঁজ গলছে পুজির কটাহে ও আমার প্রসূন, এখন জন্মায়ো না … Continue reading কবিতাগুচ্ছ- সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ
জালালউদ্দিন রুমির একগুচ্ছ কবিতা
ইয়েটস, এলিয়ট, নেরুদা, উইলিয়াম কালোর্স কিংবা অ্যাশবেরি নয়, পশ্চিমা বিশ্বে এখনো জালাল উদ্দিন রুমি নামের এক দরবেশ-কবি সবচেয়ে বেশি পঠিত ও জনপ্রিয়। এটির একটি কারণ হতে পারে- ভোগবাদি মানুষের বস্তুনির্ভর জীবনের প্রতি অপার মায়ায় ভাঙ্গন ধরার সাথে সাথে, মানুষ কিছুটা মিস্টিসিজম বা অতিন্দ্রীয়বাদের দিকে হাঁটতে শুরু করেছে। রুমি সর্বতোভাবেই একজন মিস্টিক্যাল(অতীন্দ্রিয়বাদি- সমাধিস্থ, ধ্যান অবস্থায়, সৃস্টিকর্তার … Continue reading জালালউদ্দিন রুমির একগুচ্ছ কবিতা
প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘শীতমৃত্যু ও জলতরঙ্গ’ থেকে কয়েকটি কবিতা
আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘শীতমৃত্যু ও জলতরঙ্গ’ প্রকাশ করার পেছনে ছোট একটি ঘটনা আছে। আমি ১৯৯৪ সালের দিকে জামালপুর প্রধান ডাকঘর থেকে বদলি হয়ে ঢাকা সদর পোস্ট অফিস, বাংলাবাজার-এ আসি। পুরনো ঢাকায় বড় হয়েছি। বাংলাবাজার আমার চেনা জায়গা। কিন্তু এখানে এসে মনে হল- এমন করে কাছ থেকে এমন ব্যস্ত বইবাজার আগে দেখা হয়নি। প্রধান ডাকঘরের সামনে, … Continue reading প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘শীতমৃত্যু ও জলতরঙ্গ’ থেকে কয়েকটি কবিতা
হাইডেগারের কবিতাচিন্তা
কবিতা কীভাবে সৃষ্টির দরোজা উন্মোচন করে মার্টিন হাইডেগারের সারা জীবনের দর্শন--প্লেটোর সেই যুক্তি নির্ভর ও নিশ্চয়তা-সন্ধানী জ্ঞানের জালে আটকা পড়া পশ্চিমা দর্শনের ভ্রান্ত পদ্ধতির বাইরে, বিয়িং(Being) এর স্বরূপ আবিষ্কারের সাথে সাথে, নতুন ভাষার এক গোপন দরোজা উন্মোচনের(uncovering) দর্শন। তিনি প্লেটোর ধারার দার্শনিক যেমন দেকার্ত, কান্ট, নিটসের পাগল করা 'সত্য' খোঁজার পরিবর্তে সত্যর অর্থ আসলে যুক্তি তর্ক … Continue reading হাইডেগারের কবিতাচিন্তা
সৈয়দ তারিক-এর কবিতা-শিকার ও একগুচ্ছ কবিতা
ভাবনাকে মোর ধাওয়ায় অধরাকে ধরবার জন্যই সমস্ত আয়োজন। দৃষ্টি পায় না যার দেখা, শ্রবণ শোনে না যা, স্বাদ-ঘ্রাণ-গতি-তাপ — কিছুই যায় না বোঝা যার, সেই নিখিল না-কে অস্তিত্বের সমগ্রতা দিয়ে অনুভব করাই শুধু নয়, এই প্রক্রিয়ার সাথে ভাষার দ্বন্দ্ব-মিলনে জন্ম নেয় কবিতা। তবে কি যা আছে, যা দেখি-শুনি-ছুঁই তা দিয়ে হয় না কবিতা? হয়, হয়, … Continue reading সৈয়দ তারিক-এর কবিতা-শিকার ও একগুচ্ছ কবিতা
কথা আর কবিতা: জীবনানন্দ দাশকে স্মরণ
কথা জীবনানন্দ দাশের ‘বোধ’ কবিতাটির কথা সবার মনে থাকে। আধুনিকতার ‘কবি-শহীদ’ যতই কবিতার আড়ালে তার ক্লান্তিহীন মরবিডিটি, অনিকেতের সাধনা, মানুষের আস্তানা মানুষের সংঘ থেকে স্বেচ্ছা নিবার্সনের অবস্থানটির কথাটি বলতে চান না কেন, শেষ পর্যন্ত এটি মানুষের হারিয়ে যাওয়া সংঘবদ্ধতাকে ফিরে পাওয়ার বেদনাভারাক্রান্ত অস্তিত্বকেই যেন প্রকাশ করে। ‘মানুষের মুখ দেখে কোনোদিন/ মানুষীর মুখ দেখে কোনোদিন/শিশুদের মুখ … Continue reading কথা আর কবিতা: জীবনানন্দ দাশকে স্মরণ
অপ্রকাশিত গল্প: বিবাহগীতি
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ লাইলি এবং লীলা একই যেমন মতিন এবং যতিন। কিন্তু তাদের বিবাহ হয় না। পাশাপাশি থেকে ওরা বোঝে যে ওরা বিবাহিত নয়। এ বিষয়টি তাদের পীড়া দেয়। আমাকে বলে তুমি ব্যাখ্যা করো তুমি শহরে থাকো। তোমার যোগাযোগ সম্পর্কিত জ্ঞান ভালো। এতে আমার ক্ষণিক পিপাসা জাগে। ছেলেবেলার একটি পুকুরের কথা মনে পড়ে যেখানে একটিমাত্র … Continue reading অপ্রকাশিত গল্প: বিবাহগীতি
এলিস মানরোর সাথে কারা ফিনবার্গের ফোনালাপের কিছু অংশ
সাহিত্যে নবেল বিজয়ী এলিস মানরোর সাথে ডিসেম্বর ২০০১ সালে কারা ফিনবার্গের একটি ফোনালাপ হয়। তার থেকে কিছু অংশ নিচে অনুবাদ করা হলো। গল্পে ‘সময়’ একটি বিষয় হিসাবে: এলিস মানরো: আসলে স্মৃতি আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে, কারণ আমি মনে করি আমরা নিজেদেরকে আমাদের আর অন্যের গল্প বলি। নারীরা অবশ্য এটি বেশি করে। পুরুষেরা যখন … Continue reading এলিস মানরোর সাথে কারা ফিনবার্গের ফোনালাপের কিছু অংশ
পলাশী ও পানিপথ– কবিতার আলো নাকি থোকা থোকা রক্তজবা
আমার তৃতীয় কবিতার বই ‘পলাশী ও পানিপথ (২০০৯)’ আমার তৃতীয় কবিতার বই ‘পলাশী ও পানিপথ’ প্রকাশিত হয় ২০০৯ সালে, বইমেলায়। বোদ্ধা কবিতা-পাঠক এবং সু-সমালোচকদের মতে- এই কাব্যগ্রন্থ ২০০৯ সালে প্রকাশিত কবিতার বইয়ের মধ্যে একটা অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা। নিসর্গ ২৬ সংখ্যা, এপ্রিল ২০১১১-এ ছাপা নব্বইয়ের দশকের কবিতার ওপর সামগ্রিক আলোচনা করতে গিয়ে অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য, তার … Continue reading পলাশী ও পানিপথ– কবিতার আলো নাকি থোকা থোকা রক্তজবা
একগুচ্ছ আধুনিক আরবি কবিতা
অ্যাডোনিস [সিরিয়ান-লেবানিজ কবি অ্যডোনিসের জন্ম ১৯৩০ সনে পশ্চিম সিরিয়ার কাশাবিন নামের একটি গ্রামে। অ্যাডোনিস তার লেখকনাম, আসল নাম আলি আহমাদ সাঈদ। অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের লেখকদের মতো তিনিও আবিস্কার করেছেন নির্বাসনের অনিঃশেষ যন্ত্রণা। তিনি একদিন বলেছিলেন আমি এমন একটি ভাষায় লিখি যেটি আমাকে নির্বাসন দিয়েছে। তার সবচেয়ে বিখ্যাত সৃষ্টি হল -' The Songs of Mihyar the Damascene(1961)Õ … Continue reading একগুচ্ছ আধুনিক আরবি কবিতা
একটি মৃত্যুর মানসিক তদন্ত
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ [১৯৯৬ সালে আমার আপন বড় এক ভাই হঠাৎ করে মারা যায়। অকাল মৃত্যু।আমাদের পরিবারে সেই ছিল প্রথম মৃত্যু। সেই সময় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। অনেকদিন বুকের ভেতর চিনচিন করে ব্যথা করত। তাকে নিয়ে একটি ছোটগল্পও লিখেছিলাম, ১৯৯৭ সালে। আজ পাঠকের সাথে তা শেয়ার করলাম।] মাহতাব আমার ভাই। আমার অনেক ভাই। কিন্তু মাহতাব আমার … Continue reading একটি মৃত্যুর মানসিক তদন্ত
সিমাস হিনি’র ‘ডিগিং’ কবিতার অনুবাদ ও পাঠ
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ অনেকদিন আগে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ই হিনির এই বিশেষ কবিতাটির প্রেমে পড়ে যাই। আসলে এই ধারার কবিতার প্রতি আমার ঝোঁক চিরদিনের। ইতিহাস, ঐতিহ্য, মাটি, মানুষের সংগ্রাম, রক্তপাত, মৃত্যু এইসব কবিতায় যেন এক ধরণের প্রাণ আর জান্তবতা নিয়ে আসে। সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত ইয়েটস, এলিয়ট, ফ্রস্ট পড়তাম। এলিয়ট ত ভালো লাগতোই, ইয়েটসের চেয়ে বেশি। সাথে … Continue reading সিমাস হিনি’র ‘ডিগিং’ কবিতার অনুবাদ ও পাঠ
‘নো ম্যানস জোন পেরিয়ে’ থেকে কয়েকটি কবিতা
চিঠিভূমি চিঠি লেখার পাতাভরে পুতুলঘর গরুগাড়ি ধুলিপথ নাম না জানা ছায়াপ্রাচীনের ইচ্ছা। লালনীল রোলটানা জলরাস্তা- ডাকঘরের জানালা ফাঁক করে নিয়ে যায় মেয়েদের স্কুলে। পিটিমাঠে হাত বদল- জ্বলছে শরীর লুকানোর বাসনা! দেখছি কামিজের নিচেও শহীদ হয় ঘরেফেরা রাত্রিতস্কর। বেহালা বাজানো হরিণের ভাষা - রাতভর অবসর জন্মদান,চিকিৎসা ব্যবস্থা এইসব লীলাখেলা শান্ত হয় চিঠিতে। শৈশবের হারিয়ে যাওয়া বলের … Continue reading ‘নো ম্যানস জোন পেরিয়ে’ থেকে কয়েকটি কবিতা
লেবু ফলের প্রতি
পাবলো নেরুদা লেবু ফলের প্রতি মুক্ত সেইসব লেবুফুল থেকে চাঁদের আলোর পাশে সেই ভালোবাসার ঘ্রাণ থেকে বেদনাহত সুগন্ধে ডোবা এই যে তার আগমন ঘঠল লেবুগাছ থেকে - তার হলুদ তার গ্রহ-প্রণালী থেকে লেবু পড়ে গেল পৃথিবীতে। কোমল ফল! আমাদের কিনারাগুলি ভরা লেবুফলে আলো আর সোনার বাজার পড়ে গেল গাছ থেকে। আর আমরা খুলে ফেলি … Continue reading লেবু ফলের প্রতি
কবিতা ও দুর্বৃত্তপনা
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ দুর্বৃত্তপনা আর কবিতা লেখা- দুটি দুই রকমের কাজ। ব্যক্তির দুর্বৃত্তপনা আছে কিন্তু কবিতার কোনো দুর্বৃত্তপনা নাই। ব্যক্তি-কবি একজন দুর্বৃত্ত হতে পারে কিন্তু তার লেখা কবিতা দুবৃর্ত্তপনা ধরে রাখে না। দুর্বৃত্তপনা একটি ঈভল ট্যাম্পারামেন্ট, সেটি একটি অপকর্ম সাধন করে- যার সাথে বেনিফিশিয়ারির রুটি রোজগার, আসন বাসন, মান সম্মান ইত্যাদি জড়িত।কবিতা-প্রতিভা এখানে নাই। তার … Continue reading কবিতা ও দুর্বৃত্তপনা
বন্ধুর মৃত স্ত্রী
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ স্ত্রী মারা গেলে সে কি আর স্ত্রী থাকে বা তার সাথে কিরকম সম্পর্ক হয় যখন সে শুধু মাটির সম্পত্তি। বেঁচে থাকা সময়ে যে কাছাকাছি ডাকাডাকি আলোঅন্ধকারে দেখাদেখি দিনেরাতে হয় এখন এমন তো কিছু আর হয় না। মানে শরীরী থাকা ছাড়া সম্পর্কটা কেমন হয় কোনো যোগাযোগ কি ঘটে যা উপস্থিতির সাথে সম্পর্কযুক্ত। অথবা … Continue reading বন্ধুর মৃত স্ত্রী
১৫ কবির কবিতা
আলতাফ হোসেন যুদ্ধ নাদিয়া কি পার বসে আছ যুদ্ধটা থামবে গাছের ছায়ার ল্যাপটপ বসে পা ছড়িয়ে লিখছে পড়ছে যুদ্ধ থামবে না বুদ্ধ ইচ্ছা করেনি পোলানস্কি? লেনিন? সে যদি না করে তবে অক্সফোর্ডে তোমাদের পাড়ার পলিন? সে-ই কীসে কম! তার ইচ্ছা হয়েছিল? যুদ্ধ দাউ দাউ যুদ্ধ ধিকিধিকি আবদুর রব উপসংহার স্বাভাবিক। একদা অন্ধকারে দেখতে পেতাম … Continue reading ১৫ কবির কবিতা
দশটি জেন কবিতা
[জেন কবিতা বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ইসেন্স --সেল্ফ রিয়েলাইজেশন, অ্যাওকনিং আর এনলাইটেনমেণ্ট এর উপর প্রতিষ্ঠিত। একজন জেন কবি জেন বৌদ্ধ ধর্মের স্প্রিচ্যুয়াল অনুশীলনের উপর ফোকাস করে তার ‘মন’কে দেয় পৃথিবীকে পূর্ণভাবে বোঝার জ্ঞান ও শক্তি। এইসব কবিতায় মনকে কাচের মতো পরিস্কার করে, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে , এমন সব ‘অ্যাওকনিং’ মুহূর্তকে আবিস্কার করা হয় যেখানে … Continue reading দশটি জেন কবিতা
কবিতাগুচ্ছ- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ
নিউজপেপার (সাভার ট্রাজেডি স্মরণে) লজ্জাস্থানে বসে পড়ো। খুনি মাছিরা দূর থেকে এগুলো দেখছে- তারপিন মাখানো মুখ, হাড়ের ক্যালসিয়াম আকস্মিক জিন-দুর্ঘটনা তার সাস্থ্যবান অতীত- সন্ধ্যার বাদামি রেস্তোরাঁর দিল দিলরুবার ওড়নার ফাঁক দিয়ে এসব আসামিছায়া! কায়দা করে লাল এই গ্রাফাইট ফ্লোরে কোনো এক বাঘ এসে জঙ্গল জ্যু জ্যু খেলছে। যারা শুয়ে আছে তাদের ঝিম … Continue reading কবিতাগুচ্ছ- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ
‘শাদা সন্ত মেঘদল’ থেকে কয়েকটি কবিতা
অ্যাকোরিয়াম ২ মাথার উপর দিয়ে ভেসে আসা হাঙর আমাকে কামড়াবে না হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করি- হা করে তাকিয়ে আছে শিলালিপি দাঁতের নিবিড় কারুকাজ। জলদেশে ঘুমিয়ে থাকা সমুদ্রঘাস ফুটে ওঠা নিঝুম বনপাতার দোলাচল- গ্রামবাঙলা। আমি নিশ্চিত – কলহপ্রবণতা শেষ জলদালানের কাছে তারামাছের আনন্দগান দোল খায় তেড়ে আসা হাঙরের নিশানায়। হারিয়ে যাওয়া মাছের ভবিষ্যৎ কতো নিরাপদ … Continue reading ‘শাদা সন্ত মেঘদল’ থেকে কয়েকটি কবিতা
‘জল্লাদ ও মুখোশ বিষয়ক প্ররোচনাগুলি’ থেকে কয়েকটি কবিতা
একটা কবিতা থেকে আর একটা কবিতার জন্ম না নিলে বুঝতে হবে এইটা একটা মৃত কবিতা, ভবিষ্যৎ-বিমুখ কবিতা। আর একটা কবিতা জীবিত হয় তার শেকড়ের রস পান করে অর্থাৎ তার নিজস্ব ভূমি, পরিবার, স্মৃতিচিহ্ন, ইতিহাস, ঐতিহ্যের পানি পান করে। আমার কবিতা উন্মূল নয় কখনো, তার ক্যানভাস জুড়ে আছে আমার স্বদেশ, আমার ‘ ছায়াপরিবার’ তার রক্তকথা, জন্মরেখা। … Continue reading ‘জল্লাদ ও মুখোশ বিষয়ক প্ররোচনাগুলি’ থেকে কয়েকটি কবিতা





































