কবি বারীন ঘোষালের সাথে এক সন্ধ্যা

 

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রয়াত কবি বারীন ঘোষাল সিডনি বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি এসে রাতেই আমাকে ফোন করে তার বাসায় আমন্ত্রণ জানান এই বলে – সাঈদ চলে আসো, আলাপ করবো। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর আমি আমার ক্লাস শেষে, ট্রেনে করে তার বাসার দিকে যাত্রা শুরু করি। বাসার সামনে গিয়ে দেখি আছরের নামাজের টাইম হয়ে গেছে। কোথায় নামাজ পড়ি –  চিন্তায় পড়ে গেলাম। কারণ তার বাসায় গিয়ে সেই আবদার করতে পারি কিনা – শিওর ছিলাম না। হাঁটতে হাঁটতে তার বাসার সামনে গিয়ে দেখলাম ছোট একটা সুন্দর গোছানো বাগান। আমি পরিস্কার একটা জায়গা বেছে নিয়ে নামাজটা শেষ করে দোরোজায় কলিং বেল টিপলাম। কেউ একজন দরজা খুলে দিয়ে বসতে বললেন। কিছুক্ষণ পর বারীনদা হাজির। চোখে মুখে হাসি লাগানো বারিনদা আমাকে দেখে আরো হাস্য উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন। কুশলাদি বিনিময়ের পর সেদিন কতো কথা হলো! বাংলাদেশের কবিতা, পশ্চিম বঙ্গের কবিতা। তার সাথে নতুন কবিতার কথাও হলো।  অতিচেতনা, পরাবাস্তবতা, পশ্চিম বঙ্গ ও বাংলাদেশের কবিতার ভিন্ন মেজাজ ও চরিত্র, কবিতা-আন্দোলন ইত্যাদি নিয়ে কথা হলো। এক সময় তিনি তার ভালো পাহাড়ের গল্প বললেন। ভালো পাহাড়ে কবিতার প্রজেক্ট, নতুন কবিতা বিষয়ে অনেক আলাপ হলো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে এক সময় আলাপ শেষ করে আমি কবির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। আসার সময় ট্রেনে বসে ভাবছিলাম কবিতার কথা, বারীনদার ভালো পাহাড়ের কথা, কবিতা জন্মের কথা। সেই ভাবনা থেকে নিচের কবিতাটির জন্ম।
______________________________________________

 

ভালোপাহাড়
(কবি বারীন ঘোষাল সুজনেষু)

ভালোপাহাড়ের দিকে চলে যায়
বারীন ঘোষালের গাড়ি- টম টম।
তার ভেতরে কবিতাপীরের কাছে
সিজদারত কবি, উপকবিদের দল!
মাথা নত হয়ে যাওয়া আর চাওয়া
তবুও যদি ধরা দেয় কবিতার দরবেশ।

#

কবিতা আরোহণে কেউ যায় একা
অথবা দল বেঁধে শিয়ামিজ পাহাড়ের কাছে।
শত পাহাড়-প্রার্থনার ছলে ফোটে
যদি রাশি রাশি কবিতার বিড়াল!
জানিনা জীবনানন্দ বা আল মাহমুদ
এরকম পাহাড়ের কাছে হাত পেতে
রেখেছিল কিনা!

#

এদিকে আমি সিডনির ট্রেনে বসে থাকি
একা এক বায়জিদ বোস্তামির মতো!
কাঁচের জানালা থেকে কারো বাড়ির
দূতপরী আর নীল সুইমিং পুল দেখা যায়।
দেখা যায় দুটো শাদা কচ্ছপ গল্ফের বল
পেটাচ্ছে হারবার ব্রিজের দিকে।
আর শান্ত এক সীগাল মাছ নিয়ে উড়ছে
আমার করোটিতে!

২৬/০৮/২০১৫

Leave a Reply