ঘুম ভাঙ্গার পর  

Featured

    পিঞ্জর। এইসব পাখিবন্দী শিকল খুলে দিয়েছি। যে তা- সে তাই হোক। মনের ভাষা ফুটুক আজাদ বাতাসে আকাশজুড়ে উড়ুক মজলুম পারাবত! * বলো- গন্ধফুল। কে তোমাকে বিলায়? আর উজাড় করে জিকির করে গোপনে? সে কি কামেল মুসাফির? সে কি মিসকিন? দেখো তার রুহ ধরে নেমে আসে শান্তির ফজর। * আমাদের গ্রাম আজ ঘাসের জায়নামাজ। … Continue reading ঘুম ভাঙ্গার পর  

নির্বাচিত ত্রিশ কবিতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

Featured

  আবু সাঈদ  ওবায়দুল্লাহ’র প্রথম থেকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত মোট ১১টি কাব্যগ্রন্থ’- শীতম্রত্যু ও জলতরঙ্গ (১৯৯৫), বাল্মীকির মৌনকথন (১৯৯৬), পলাশী ও পানিপথ(২০০৯), গানের বাহিরে কবিতাগুচ্ছ(২০১০), শাদা সন্ত মেঘদল(২০১১),  জল্লাদ ও মুখোশ বিষয়ক প্ররোচনাগুলি(২০১২), নো ম্যান্স জোন পেরিয়ে(২০১২), ক্রমশ আপেলপাতা বেয়ে(২০১৫), সিজদা ও অন্যান্য ইসরা(২০১৬), নতুন পাণ্ডলিপির দিনে(২০২০) ও সমস্ত বিসমিল্লাহ(২০২২) থেকে পাঠকপ্রিয় কবিতাগুলো নির্বাচিত করা … Continue reading নির্বাচিত ত্রিশ কবিতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

‘কবির নামাজ’ থেকে কয়েকটি কবিতা

Featured

কবিতার ভেতরে কবিতার ভেতরে গিয়ে আজান দিতে চাই।কিন্তু কোনো মসজিদ পাই না বলে ফিরে আসি।বারান্দায় গিয়ে আজান দিই 'আল্লাহু আকবর''আল্লাহু আকবর।'দূরে দাঁড়িয়ে থাকে- বিদেশি পাইনগাছ।বলে- যাও মিয়া, ঘরের ভেতরে যাওনিজের ঘরে গিয়া বিবিরে চুমা খাও।আমি নাছোড় বান্দা,আয়াতে বিশ্বাস করিকোরানের ভাষার মোজেজা বুঝি।আবার ‘আল্লাহু আকবর’ বইলাশাদা কাগজে কলম চালাই।এইবার একটা লাল মসজিদ খুলে যায়বাংলা শব্দ, বাক্য, … Continue reading ‘কবির নামাজ’ থেকে কয়েকটি কবিতা

“মায়া কমলাপুর” থেকে কয়েকটি কবিতা

Featured

      ভবিষ্যৎ কবিতার সম্ভাবনাগুলি   একটি পাতা থেকে আর একটি পাতায় যেতে যেতে লাল পিপড়া থেমে গেলো বন্দুকের খোঁজে। ভোর হতে অনেক রাত বাকী। গাছের ভেতর ঘুমিয়ে পড়া পাখিগুলি মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে বিস্ময়ে। যেমন রক্তমাখা দুলদুল পড়ে থাকে                    কারবালার ঘাসে।   * গোলাপের লাল থেকে আর একটি গোলাপ বড় হতে … Continue reading “মায়া কমলাপুর” থেকে কয়েকটি কবিতা

সাম্প্রতিক লেখা কিছু কবিতা

Featured

মায়ের মুখ কোথাও একটা রৌদ্র পড়ে আছে মায়ের মুখের মতো। ব্রিজ ভেঙ্গে পাখি তো উড়ল, হাত থেকে সরে গেল গলিপথের বাবলা। হাতি চলে, হাতি চলে সমস্ত পাড়া গাঁ সিরাজ হয়ে যাওয়ার গান। দেখি কোলাকুলি করছে কলকাতার ঝাউগুলো। নিচে নেমে যায় হালকা চালের গীতিময় সন্ধ্যা। বাড়িতে এলেই- বাবা তুই ভাত খাবি? অপেক্ষার ছায়াগুলো গোলাপ গাছের চারা। … Continue reading সাম্প্রতিক লেখা কিছু কবিতা

বাঙ্গালি মুসলমান কবি

Featured

আমি বাঙ্গালি মুসলমান কবি আমার সামনে ঝুলে রবীন্দ্রনাথের ছবি। বলে- তুই এত দিওয়ানা হলি ওরে ও মুসলমান কবি! আমি বলি- আমারে একটা নাম দেন ওহে শান্তিনিকেতনী পির। বন্ধক রাখেন তরবারি- ধনুক ও তীর। আমাকে কবিতাভাষা দেন নদী নদী। আমি যেন মাছ হই- মাছের শিকারি। আমার উঠোনে জাগে নিমগাছ তার ফুল ছাড়ে আজব কস্তরি ঘ্রাণ আমি … Continue reading বাঙ্গালি মুসলমান কবি

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহর সাথে হোসেন মোফাজ্জলের কথাবার্তা

Featured

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ : অনেকদিন হইলো আমাদের দেখা হয় না। একবার আমরা সিদ্ধান্ত  নিছিলাম যে আমরা এক সাথে বসবো, সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করবো। সময় আর সুযোগ হয়ে উঠে না তাই পারি না। ঈদ উপলক্ষ্যে আজ একটু এক সাথে হইতে পারছি। তাই আশা করি কিছু কথাবার্তা বলা যাবে। কেমন  আছেন?   হোসেন মোফাজ্জল : ভালো আছি। ঠিক … Continue reading আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহর সাথে হোসেন মোফাজ্জলের কথাবার্তা

আয়নালেখা- আমার লেখা গানকবিতার খাতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

২০০৯-২০১০ সালের দিকে আমার  জীবনে একটা অন্যরকমের বোধিপ্রাপ্তির ঘটনা ঘটছিল।  সেই বোধিপ্রাপ্তি গানকবিতা লেখায় আমাকে নিয়ে যায় এবং আমি সে মোতাবকে কিছু গানকবিতা লিখি। প্রায় এক যুগ আগে লেখা গানকবিতাগুলি আজ এখানে প্রকাশ করলাম। প্রিয় পাঠক কেউ যদি মনে করেন সুর তুলবেন, গাইবেন তাহলে আমার অনুমতি সাপেক্ষে স্বাগতম। কপিরাইটঃ আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ ।   ১ … Continue reading আয়নালেখা- আমার লেখা গানকবিতার খাতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

কবিতার ফর্ম, স্ট্রাকচার, টেকনিক ও ভাষা

কবিতার ফর্ম, স্ট্রাকচার ও ভাষা - এই তিনটির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হলে আমরা একটি বাড়ির কথা চিন্তা করতে পারি। সমস্ত বাড়িটি হলো কবিতার ফর্ম, বাড়ির রুমগুলি হলো স্ট্রাকচার আর ফার্নিচারগুলি হলো কবিতার ভাষা। কবিতার পড়াশোনায় কবিতার ফর্ম, স্ট্রাকচার ও ভাষা পর্যবেক্ষণ করার সাথে সাথে আমাদের দেখতে হবে এগুলো কীভাবে কবিতার ভালোলাগা ও বোঝার সাথে জড়িত। … Continue reading কবিতার ফর্ম, স্ট্রাকচার, টেকনিক ও ভাষা

আম্মা

  আমার আম্মা চলে গেছে দশ বছর আগে! আম্মার মতো কেউ কি ফিরে আসে দশ বছর পরে? এ তো এক শূন্য ধাঁধা। ভেতরে প্রকাশ করে ভেতরেই থাকা। তবু যে কোনো দরোজার দিকে তাকিয়ে থাকি। আম্মা কি দাঁড়িয়ে আছে চোখ ভরা মায়া! বলছে ফিরে কি আসবি না ছেলে, হাজারিবাগ, মনেশ্বরে? যেখানে তোর ঘুড়ি বাঁধা আছে বাবুলদের … Continue reading আম্মা

মাতাল তরণি

  অনুবাদ: আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ   অসাড় নদীর ভেতরে ঢুবে যাওয়ার সময় আমি আর টের পাইনি আমাকে টানছে কোনো বাঁধন উজ্জল লাল চামড়া নিয়ে গেছে বণিকদের লক্ষ্যে রঙিন কাঠের খুঁটিতে গেঁথে তাদের নগ্ন। আমি উদাসীন আমার নাবিকদের প্রতি যারা বহন করছিল ফ্লেমিশ গম বা ইংলিশ তুলো যখন বণিকদের সব গর্জন থেমে গেল নদী আমাকে ভাসিয়ে … Continue reading মাতাল তরণি

’সে’ সর্ম্পকিত সমস্ত ধাঁধা

  ভারি মেঘ জমেছে জানালার কিনারে তার দাঁড়ানো কলসের আকার! পর্দার আড়ালে আরো চিত্রিত দুধ দুধের চাকু -বুক বরাবর। এরকম একলা রোয়া ওঠা লাল সবুজ পেঁপেতে মাছি আর ভোঁ ভোঁ হিংসাখেলার বাঁশি। এভাবে সীমানা যখন উন্মুক্ত এক নখদন্তহীন বাঘ বসল মায়াবিড়ালে! ## কোথাকার কোন জল কোথায় এসে লাগল শান্ত হাতের খনি- রক্ত দেজাভুঁ! গড়িয়ে নামছে … Continue reading ’সে’ সর্ম্পকিত সমস্ত ধাঁধা

পাঁচটি কবিতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

ভবিষ্যৎ ২০১৬ সাল বা তার পরের কবিতায় রক্ত শব্দটি অনেক বার বলা হবে যেমন পিরহান মাছ যেমন ব্রিজপার খুলে সৎ মেয়েদের গোসল আরো আরব আসবে আরো জুলফিকারের ভেতর পীর একটি পাখি। একটি সঙ্গীত কতো দূর বেজে আবার রক্তপাতের চিঠি! বন্দি করে থাকবে শাহজাহান তার পুত্র দারাশিকোহ তারা জেনে যাবে শাহজাহান অমরত্ব চায় না নূরজাহানে একটি … Continue reading পাঁচটি কবিতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

লাল গুলির দোস্তানা

কিনারা জলমেয়েদের আবলুশে জেগে থাকি তুমি কাক তুমি পক্ষী উড়িয়ে আনো ভাত কুড়ানোর ধী। গানের পাখিরা বেহালা করছে অবিরত তবুও আমি আর জাগবো না জেনে রাখো। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভাষা খুঁজি হা গোলাপ হা জবা--গুচ্ছ তিতির গুঁজে দিই জলবনহুরের ছাতিতে। শাদা তিমির উপমা আজ এই ভোরের সকাল ঘুমের কাঁকড়ারা জরায়ুতে লুকায় তুলতুলে মাছবাচ্চাদের। এখানে বালির … Continue reading লাল গুলির দোস্তানা

‘নো ম্যানস জোন পেরিয়ে’ থেকে কয়েকটি কবিতা

Featured

চিঠিভূমি চিঠি লেখার পাতাভরে পুতুলঘর গরুগাড়ি ধুলিপথ নাম না জানা ছায়াপ্রাচীনের ইচ্ছা। লালনীল রোলটানা জলরাস্তা- ডাকঘরের জানালা ফাঁক করে নিয়ে যায় মেয়েদের স্কুলে। পিটিমাঠে হাত বদল- জ্বলছে শরীর লুকানোর বাসনা! দেখছি কামিজের নিচেও শহীদ হয় ঘরেফেরা রাত্রিতস্কর। বেহালা বাজানো হরিণের ভাষা - রাতভর অবসর জন্মদান,চিকিৎসা ব্যবস্থা এইসব লীলাখেলা শান্ত হয় চিঠিতে। শৈশবের হারিয়ে যাওয়া বলের … Continue reading ‘নো ম্যানস জোন পেরিয়ে’ থেকে কয়েকটি কবিতা

১৫ কবির কবিতা

আলতাফ হোসেন যুদ্ধ নাদিয়া কি পার বসে আছ যুদ্ধটা থামবে গাছের ছায়ার ল্যাপটপ বসে পা ছড়িয়ে লিখছে পড়ছে যুদ্ধ থামবে না বুদ্ধ ইচ্ছা করেনি পোলানস্কি? লেনিন? সে যদি না করে তবে অক্সফোর্ডে তোমাদের পাড়ার পলিন? সে-ই কীসে কম! তার ইচ্ছা হয়েছিল? যুদ্ধ দাউ দাউ যুদ্ধ ধিকিধিকি   আবদুর রব উপসংহার স্বাভাবিক। একদা অন্ধকারে দেখতে পেতাম … Continue reading ১৫ কবির কবিতা

কবিতাগুচ্ছ- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

  নিউজপেপার      (সাভার ট্রাজেডি স্মরণে) লজ্জাস্থানে বসে পড়ো। খুনি মাছিরা দূর থেকে এগুলো দেখছে- তারপিন মাখানো মুখ, হাড়ের ক্যালসিয়াম                          আকস্মিক জিন-দুর্ঘটনা তার সাস্থ্যবান অতীত- সন্ধ্যার বাদামি রেস্তোরাঁর দিল দিলরুবার ওড়নার ফাঁক দিয়ে এসব আসামিছায়া!   কায়দা করে লাল এই গ্রাফাইট ফ্লোরে কোনো এক বাঘ এসে জঙ্গল জ্যু জ্যু খেলছে। যারা শুয়ে আছে তাদের ঝিম … Continue reading কবিতাগুচ্ছ- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

‘শাদা সন্ত মেঘদল’ থেকে কয়েকটি কবিতা

অ্যাকোরিয়াম ২  মাথার উপর দিয়ে ভেসে আসা হাঙর আমাকে কামড়াবে না হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করি- হা করে তাকিয়ে আছে শিলালিপি দাঁতের নিবিড় কারুকাজ। জলদেশে ঘুমিয়ে থাকা সমুদ্রঘাস ফুটে ওঠা নিঝুম বনপাতার দোলাচল- গ্রামবাঙলা। আমি নিশ্চিত – কলহপ্রবণতা শেষ জলদালানের কাছে তারামাছের আনন্দগান দোল খায় তেড়ে আসা হাঙরের নিশানায়। হারিয়ে যাওয়া মাছের ভবিষ্যৎ কতো নিরাপদ … Continue reading ‘শাদা সন্ত মেঘদল’ থেকে কয়েকটি কবিতা

‘জল্লাদ ও মুখোশ বিষয়ক প্ররোচনাগুলি’ থেকে কয়েকটি কবিতা

একটা কবিতা থেকে আর একটা কবিতার জন্ম না নিলে বুঝতে হবে এইটা একটা মৃত কবিতা, ভবিষ্যৎ-বিমুখ কবিতা। আর একটা কবিতা জীবিত হয় তার শেকড়ের রস পান করে অর্থাৎ তার নিজস্ব ভূমি, পরিবার, স্মৃতিচিহ্ন, ইতিহাস, ঐতিহ্যের পানি পান করে। আমার কবিতা উন্মূল নয় কখনো, তার ক্যানভাস জুড়ে আছে আমার স্বদেশ, আমার ‘ ছায়াপরিবার’ তার রক্তকথা, জন্মরেখা।  … Continue reading ‘জল্লাদ ও মুখোশ বিষয়ক প্ররোচনাগুলি’ থেকে কয়েকটি কবিতা