আয়নালেখা- আমার লেখা গানকবিতার খাতা- আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

২০০৯-২০১০ সালের দিকে আমার  জীবনে একটা অন্যরকমের বোধিপ্রাপ্তির ঘটনা ঘটছিল।  সেই বোধিপ্রাপ্তি গানকবিতা লেখায় আমাকে নিয়ে যায় এবং আমি সে মোতাবকে কিছু গানকবিতা লিখি। প্রায় এক যুগ আগে লেখা গানকবিতাগুলি আজ এখানে প্রকাশ করলাম। প্রিয় পাঠক কেউ যদি মনে করেন সুর তুলবেন, গাইবেন তাহলে আমার অনুমতি সাপেক্ষে স্বাগতম। কপিরাইটঃ আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ ।

 

তুলো ঘষে আগুন জ্বেলে লেপ তোশকে বানাও উম
ও ধুনুরি তুমি বলো কার দেহে থাকে ঘুম।
ঘুমায় ঘুমায় মেঘমানুষে ঘুমিয়ে পড়ে স্বপ্নকোলে
ও ধুনুরি তোমার হাতে সব হারানোর কল্পধুম।

লেপ তোশকে দেহ নাচে দেহের ভেতর নদী কেউ
সাত সমুদ্রে নৌকা চলে জলের উপর আকাশ ঢেউ
হে ধুনুরি ও ধুনুরি তোমার হাতে এতো যাদু
তুলো ঘষে আগুন জ্বেলে লেপ তোশকে বানাও উম।

১০/০৪/০১/২০১০


ঘুড়ি উড়ে সাত আসমানে হলুদ রঙে লালনীল
বন্ধুর লাটিম ঘোরে জোরে চাঁদের বুড়ি চরকা কাটে
আহা শৈশব।

সন্ধ্যারাতে দুপুররোদে গলির মোড়ে খোলামাঠে
স্বপ্নআড্ডা সিগারেট মুখে চোখ ঢেকে যায় ধুঁয়ার ফুলে
আহা শৈশব।

ফ্রক পড়া মেয়েরা আসে খুলে বেড়ায় চুলের সাগর
একটু ধরা একটু ছোঁয়া তাতেই জীবন পাল্টে সুদূর
আহা শৈশব।

হঠাৎ করে বাবার মরণ হঠাৎ করে বড় হওয়া
স্বপ্নআড্ডা ফেলে এসে কামাই রোজগার জীবনধান্ধা
আহা শৈশব।

২০/০৩/২০১০


তোমাদের জানালা ঘিরে আছে কিছু কিছু রোদ
আমি ছোঁবো কি ছোঁবো না -এই স্বপ্নবোধ
আমাকে নিয়ে যায় আমাকে ঘোরায় কোন কোন পথে
তোমাদের জানালায় জেগে থাকা তোমার মতো রোদ।

অন্ধকারে আমরা দাঁড়িয়ে রয়েছি
ক্ষণে ক্ষণে আলোর ইশারা গুনছি
যদি দরোজা খুলে যায় – যদি পাহাড় পড়ে যায়
তবে আমরা দেখি তোমাদের জানালার রোদ।

তোমাদের উঠোনে পাখি আর জলের সঙ্গীত
জোছনাছোঁয়া শীতরাতে – বর্ষার গীত
আমরা অপেক্ষায় – কবে ডাকে আগুনের ভাষা
তোমাদের জানালা ঘিরে হেঁটে বেড়ায় কিছু কিছু আশা।

১৪/০৩/২০০৯


কাচের বেড়ায় বানাইছি বাড়ি
তোমায় যেন দেখতে পারি
তোমায় যেন শুনতে পারি
বন্ধুরে।

তুমি চুল খুলে জানালায় দাঁড়াও
কাপড় ছড়াতে ছাদে যাও
আমি তোমায় দেখতে পারি
বন্ধুরে।

সমাজচোখে বন্দি আমি
আমার বাড়ি নিত্য কবর
তোমার পথে বাগান ফোটে
আমি সদা দেখতে পারি।

কাচের বেড়ায় বানাইছি বাড়ি
যেন তোমায় দেখতে পারি
তোমায় যেন শুনতে পারি
বন্ধুরে।

১৫/০১/২০১০


পথে পথে গান করি পিচ আর পাথরে
গানের ভেতর নদী জাগে সকালে আর বিকালে
তুমি যতই দূরে থাকো, বাসা বাঁধো অচেনা দেশে
আমি ঠিকানা চেনে নেবো অচেনা আঁধারে।

সব কিছুই শেষ হয় সব কিছুই ফিরে ফিরে আসে
এই পথেরও শেষ আছে কোথাও কোন নগরীতে
তোমাকে পাওয়ার আশা বেঁচে থাকে জল আর বাতাসে
মাটি মাটি ঘাস হবো তুমি আমি ভালোবেসে।

পথে পথে গান করি জল আর আগুনে
গানের ভেতর মহারাস্তা তুমি আমি সেখানে
আমাদের চোখ ভরা আলো বুক ভরা আশা
দুরে যায় দূরাশা মানুষের ছলনা-ভাষা।

১৬/০৩/২০০৯


আয়না খুলে যে রূপ রূপে আমি কেউ
অন্য দেহে অন্য নামে লুকিয়ে আছে আর এক কেউ
সেতো আমি নই আমি নই।

আয়না চেনে বাইরের গঠন
ভেতর বাড়ি সেতো চেনে না
মনের আয়নায় যে রূপ ধরি
সেই রূপ আয়না চেনে না
আয়না চেনে গাছগাছালি ভেতরবৃক্ষ জানে না।

আয়না খুলে যে রূপ রূপে আমি কেউ
অন্য দেহে অন্য নামে লুকিয়ে আছে আর এক কেউ
সেতো আমি নই আমি নই।


তুমি কোথায় আছো কোথায় থাকো কিছুই জানি না
মনের ভেতর প্রশ্ননদী কিছুই মানে না।
সদা সাপে কাটে ইস্কুল ঘরের আলো
আমি জানি জানি না কোনটা মন্দ কোনটা ভালো
তুমি এসে লিখে দাও আমার ঠিকানা
তুমি কোথায় আছো কোথায় থাকো কিছুই জানি না।

জন্মকালেই দণ্ড দিলা কাগজে কলমে
আমি ভুলে যাই সেই কথা মিথ্যা খেলার ছলে
শুধু রূপে রসে মাতাল থাকি
কাকে দেখি কাকে ডাকি
আমার সব সাধনা কাটা গেলো মরণ জাঁতাকলে।
তুমি কোথায় আছো কোথায় থাকো কিছুই জানি না
মনের ভেতর প্রশ্ননদী কিছুই মানে না।

২০/০১/০৯


লাইব্রেরীর ছাদে উড়ে বট বৃক্ষের পাতা
তুমি ফেলে গেছ কবে তোমার ভূগোলের খাতা
লেখার ভিড়ে পড়ে আছে তোমার মাথার চুল
আর একটি গোলাপের পাতা
লাইব্রেরীর ছাদে উড়ে বট বৃক্ষের পাতা।

সকাল দশটায় আসা বিকেল পাঁচটায় যাওয়া
তোমার হলুদ জামা উড়ে উড়ে বসন্তের হাওয়া
আড়াল করে দেখা তোমার আঙুলফুলের লীলা
তোমার বাড়ির উঠোনে কাগজের নৌকা বাওয়া।

লাইব্রেরীর ছাদে উড়ে বট বৃক্ষের পাতা
তুমি ফেলে গেছ কবে তোমার ভূগোলের খাতা
লেখার ভিড়ে পড়ে আছে তোমার মাথার চুল
আর একটি গোলাপের পাতা
লাইব্রেরীর ছাদে উড়ে বট বৃক্ষের পাতা।

১৬/০৪/২০১০


তুমি স্বপ্নেও হওনা আপন
আমি অপেক্ষায় অপেক্ষায় মরে যাই কখন (২)।

শত চোখ জ্বেলে রেখেছি মরুপথে
আলো জ্বেলে ধরেছি ঘরে
তুমি এসে পা রাখবে কখন।
তুমি স্বপ্নেও হওনা আপন
আমি অপেক্ষায় অপেক্ষায় মরে যাই কখন

এই জীবন চলে যায় আর এক জীবনে
শহর থেকে আর এক শহরে
তুমি কোথায় রেখেছো খোলা দরোজা
কে এসে ফুল দিয়ে যায় গোপনে।

তুমি স্বপ্নেও হওনা আপন
আমি অপেক্ষায় অপেক্ষায় মরে যাই কখন (২)।

২০/০৬/২০০৯

১০
তুমি আমায় প্রকাশ করে দাও
আমি অন্ধকারে পুষ্পাধারে গুপ্ত হয়ে আছি
তুমি আমায় আকাশ করে দাও।
আমি ডানা মেলে সবুজনীলে ডুবে যেতে চাই
তুমি বন্ধু করো না করো আমার দরকার নাই।

অন্ধকারে ঘুমঘোরে কে ফোটালো আমায়
জীবনগ্রহে ভাগ্যলিপি কে লিখালো আমায়
আমি অষ্টপ্রহর রাস্তা খুঁজে যাই
তোমার কাছে কি কোনো দিকযন্ত্র নাই?

আমি না জন্মাইতেই আসামী হইলাম
পথের খোঁজ না পাইয়া সারা জীবন কাটাইলাম
আমার সুখচিন্তা নষ্ট হইল বিধান না জানাতে
তোমার কাছে কি কোনো শরণ নাই?

২৫/০৬/২০০৯

 

গান ১১

যে সাধনে পোড়ে দেহ তার সংজ্ঞা না জানি
শূন্যতাদুষ্ট মন -উড়ে যায় কোন জাতহীন সংঘে
চাষ করি গাছ লাগাই জমি আর জন্মে
তবু জোড়া না লাগে তবু কলহে থাকে বংশলতিকা।

যখন মাথা থেকে বিচ্ছিন্ন এই ললিত সংসার
নিরালায় বাজে ডুগডুগি আশা ধোঁয়াশা
উড়ছে থাকা না থাকা জীবন গন্ধকুসুমের পাতা
মাথা থেকে পা পর্যন্ত তোমাকে না চিনি।

আছে ভাঙ্গা শানকি মাটির থালা বৃত্ত আলাদা
প্রশ্নক্ষুধা ঈশসুধা না জানার মরণ পিপাসা।
ভাবি কেন আসি কেন যাই কার নির্দেশে
কোন মূলকে বার্তা যায় ঠিকানাবিহীন রাস্তায়?

আর ঘুমায় যে মাথার কাছে অতি নিকটে-
বন্ধুবেশে না শক্রবেশে তাতো না জানি
তার শরীরেও জন্ম নেয়-চেনা অচেনার বিস্ময়!
চাদর সরিয়ে তাকে নিই- এই শক্তি না পাই।

২৯/০৮/২০১০

গান ১২

কতো দূর সুদূরে এই ঘর বান্ধিলাম
অন্তরে বন্দরে বধূ তোমাকেই শুধু চাইলাম
তবু তুমি আসো না খুল না খুল না বন্ধ দরোজা
আমি কূল কিনারা কোনো দিশা না পাইলাম।

আমার ঘরে বাইরে হিংস্র তিমি হাঙরের বাস
মনসাগরে ঝড় তুফান আগুনের ত্রাস
আমি কেমনে ঠেকাইবো এই গোপন আক্রমণ
শহীদ এই জীবনে কতো রক্ত খোয়াইলাম।

কতো গান ভাষা কতো পাশা শিখিলাম
রূপে অরূপে দেহমন কাটাইলাম
তবু তোমার মজা কিছুতেই পাইলাম না
জবাব না পাইয়া শুধু অন্ধকারে কাটাইলাম।

১৪/১১/১০

গান ১৩

বাঙালি না মুসলমান এই ঝগড়াতে যায় সময়
কম্বল বান্ধিয়া তাড়াই মার খাওয়ার ভয়
গলা কাটিয়া যায় দিল ভাঙ্গিয়া যায়
তবু পাই না পাই না কোনো পরিচয়
হায়রে কেমনে পাই আসল পরিচয়।

বুদ্বিজীবী বিভেদ শেখায় ছলচাতুরীতে
আমার ভাবচিন্তা কালো হইল সেই বিষেতে
ভাইকে করি ‘নাই’ হিংসা করি ঠাঁই
নিজদেশ পর হইল কার সাজাতে।

আমরা যেমন লুঙ্গি পইরা মেলায় যাই
পাঞ্জাবি পইরা মসজিদে যাই
তেমনি আবার কোনো কিছু না কইরা
শূন্যের মাজারে ঘুমাই।

বাঙালি না মুসলিম এই ঝগড়াতে যায় সময়
পরদেশি সাঈদ বলে মূলেতে আসল পরিচয়
হায়রে জানি শুধু মানুষ পরিচয়।

১৫/১১/২০১০

গান ১৪

আমাকে তাড়াইয়া তুমি কোথায় কর বাস
জনমে মরণে পাইবা বন্ধু আমারই শ্বাস।
যতো দূরে যাও আমার ছায়া তোমার দিকে যায়
তোমার সাথে এই দেহ প্রেমনৌকা বায়।

তোমার অন্তরে রাখিয়া করি কতো লীলা
আমার ভেতরে তুমি গাছে ফুলে থাকিলা।
আমারে মুছিয়া তুমি কোথায় কর বাস
তোমার ভেতরই থাকি আমি হইয়া জিন্দালাশ।

১৯/১১/২০১০

গান ১৫

হলুদে কমলায় ফুটে আছো ফুল
মৌ মৌ গন্ধবনে ওড়ে তোমার চুল
তার সাথে নাচছে তোমার শরীর ময়ূরী
আমার ঘুম হয় না বন্ধু আমার ঘুম হয় না।

আমি আছি বন্দি নিষেধের দেয়ালে
তোমাকে ধ্যান করি স্বপ্নসাধন খেয়ালে
যদি ভালোবাসো উড়াও তোমার পতাকা
তোমার আমার মিলন হয় মৃত্যুহীন সকালে।

আমি হলুদে কমলায় নির্বাসিত রই
ক্ষণিক প্রজাপতি সাজিয়া তোমাতে বিলীন হই
তোমার অঙ্গ সুগন্ধে কাটে সারাবেলা
আমাকে করো না কারো না আর অবহেলা।

১৯/১১/২০১০

গান ১৬

তুমি কখনো হইলা না আমার সাথী
প্রেম করেও শূন্য আমি বুঝি না তোমার গতি
অপ্রেমের করাতে কাটে আমার রাতি
তুমি কখনো হইলা না আমার সাথী।

তোমাকে ছুঁয়ে আমি তোমাকে না পাই
তোমার পথে হেঁটে গিয়ে শত পথে হারাই
বুঝি না বুঝি না বন্ধু তোমার এই পিরিতি
আমাকে কাছে নিয়ে আমাতে না সঙ্গতি।

তুমি কখনো হইলা না আমার সাথী
প্রেম করেও শূন্য আমি বুঝিনা তোমার মতি
আমাতে থাকিয়া বন্ধু আমাতে না বসতি
কেমনে কেমনে মানি এই নিঠুর নিয়তি।

২০/১১/২০১০

গান ১৭

জানি না জানি না বন্ধু তোমার এই খেলা
এত ভালোবাসো আবার কর অবহেলা।
তুমি ফোটাও গন্ধফুল কাঠবনের ডালে
সেই ফুল হয় পাখি কবরের চালে।

জাতি জাতি ভিন্ন জাতি সাঈদ চেনে কয়জনা
আমার তবু বিচার হবে আমি কোন জনা?
তোমার ঘরে গিয়া তোমাকে না পাই
হরেক দস্যু নেয় তোমার বাসায় ঠাঁই।

কথায় ব্যথায় তোমাকে না পাবো জানি
অন্তর খুলিয়া তোমাতে বানাবো বসতবাড়ি
এমন করে আছো মিশে রক্ত যেমন শরীরে
তুমি আছো না আছো কিছুই না জানি।

গান ১৮

বাঁশের দড়িতে বান্ধা আমার মায়ের ঘর
আমি জিন্দা থাইকা হইলাম আজনবি পর
শেষ বিদায়ের মায়ায় শুয়ে আছে মা
আমার কাটেনা কাটেনা প্রহর
ও মা ও মা আমার কাটেনা প্রহর।

জন্ম দিয়া তুমি কেমনে গেলা চইলা
হাজার লোকের ভিড়ে কিছু না কইলা
তোমার মুখ দেখিব বইলা জ্বালাইছি বাতি
আমার আন্ধার হইল এই জকমকি শহর।

আমি ঘাসে সুবাসে সাজাইবো মাটি
শাদা গোলাপের লাগাইবো চারা
দেবো তাকে আমার শত জন্মের পাহারা
মা আমার মা আমার হইবো না পর।

১৪/১১/২০১০

গান ১৯

কতো রূপে সাজে বন্ধু তোমার অদেখা চেহারা
শত ভাষে কথা সাজায় কে বা কাহারা
তবু তোমার রূপ শেষ হয় না হয় না
আমি পারি না ধরিতে কাছে থাকা অধরা!

এমনিতে আসো যখন কেউ কথা না কয়
তোমাকে হারাই যখন কথা চালান হয়
তাই নীরবে বুঝি তোমার নীরব আগমন
তুমি ভেতরে আছো ফইলা সবখানে লুকাইয়া ।

আমিও অবাক বন্ধু আমিও নীল
আমার রক্তমাংস তোমারো অধীন
তুমি যেখানে এই অধমে রাখিবা
সেইখানে জ্বলিবে তোমার প্রেমের সাহারা।

১৪/১১/২০১০

গান ২০

যারা বান্ধে তারা না জানে তোমার উসিলা
তারা ঘর করে ছোট উঠান করে খাটো
আমি পরদেশি সাঈদ কী করি বুঝি না।

যাদের তুমি দিলা স্বরূপের রন্ধন
তারা না করিতে পারে আগুনের যতন
যা দেখে যা শোনে তাকেই করে হাসিলা।

আমার ভেতরে আছো গোপনে লুকাইয়া
দিবসরজনী কাটে প্রেমের ভাব লইয়া
যারা কান্দে তারা না চেনে তোমার মঞ্জিলা।

আমি না চেনে না দেখে তোমাতে ডুবি
মাথা ও মনে খুলে তোমার মধুর ছবি
আমার ভেতর তুমি অদৃশ্য থাকিলা।

১৪/১১/২০১০

 

গান-কবিতার লেখকঃ আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

(কপিরাইটেড গানকবিতা। এই গানকবিতা কোনভাবে অন্য কারো নামে চালানো, লেখকের অনুমতি ছাড়া প্রিন্ট করা আইন অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ। )

 

Leave a Reply