হাশর
আমিও হঠাৎ উড়ে পড়ব সীমান্তে। তপ্ত বালিসৌধে
গুলিবিদ্ধ ডানা আর রক্তচক্ষু উজাড় করে দেখবো
গুটি পোকার মতোন মানুষের ঢল, খাঁ খাঁ বায়ুস্বর,
আত্মভোলা, মূর্তি-সেবীদের ঘুর্ণিনৃত্য, অগ্নিঘর ।
দেখবো আকাশ চূর্ণ হয়ে পড়ছে অবাক লোকালয়ে!
যেন কার্পাসের ফুল, মাথায় রোদের ছুরি- জল,পানি দূর।
তখন একাকী নিরিবিলি তোমার পাগল দুটি চোখ,
হে গভীর বনভূমি থেকে ডানা ঝাপটিয়ে আসা
বিস্ময় সুন্দর! আমাকে কি চোখ তুলে দেখবে না?
যখন সন্তান চিনবে না তার মাতা ও পিতাকে,
বোন চিনবে না ভাইকে। যখন সারি সারি
আগুনের ড্রাগনকলাম দাউ দাউ
গলা পর্যন্ত উঠবে।
বালকেরা বুড়ো হয়ে যাবে ক্রমাগত,
চারদিকে মানুষের কলরব বাঁচাও, বাঁচাও।
সূর্য গিলে খাবে মস্তকের টাটকা গোলাপ।
তুমি কি তাকাবে না আমার দিকে?
ভাবিয়ে দেবে না এক বৃষ্টি পড়া রাতের করবীগান?
একটা ডালিম গাছবেয়ে নেমে আসা ত্রস্ত গিরগিটি।
জাগিয়ে দেবে না- নিঝুম পাতালের ঘুম ভেঙে
গলাগলি করে থাকা দুটি হতভম্ব মাছরাঙা পাখি?
কিছু জন্ম
রৌদ্র ও ভাষার কলি। দিকে দিকে ছু, চম্পা
ঝরাপাতা, হাওয়ার করতালি।
দেখি আলোর বাজনা, রূহ মাতম, শান্ত মৌ কেরেদানি।
রবাহুত ডেকেছো কি অপরূপ গুচ্ছ জামরুল, বাদামে?
আমার আজ উড়াল হলো দ্বীপদেশ, দরগাখানায়।
ফুল ঝরছে, পাখি নাচছে, দল ছল পিপড়ার বাজিখানা আড়ালে।
দেখছি আপেলফুল তুষার কলমে
দেখছি মাছসেনাদের সাঁতার সমুদ্র-তাঁবুতে।
পা পড়ছে, গ্রীবা দুলছে, নাভি কাঁপছে বালিসোনা, স্বর্ণ দেয়ালে।
মিরাজ তুমি বলো, কোলাজ তুমি বলো
বলো স্বপ্নতন্দুর, লাল জন্ম আগুনের।
আমি শান্ত কবিতাখনি ফুটছি রৌদ্র ছায়া, করবী, গোলাপে।
মায়া কমলাপুর
আমিরগঞ্জ আসলেই মায়ের বাড়ির ছাদ।
আহা! মা কি এখনো নীল জামা পরে
আর বাবলাগাছে পাখি ধরে?
তখনো দুপুর,
একটা ট্রেন বুকের কাছে বেথেলহেমের গির্জাধ্বনি।
সকাল হয় হয় আর শীতের মালভূমি ধরে
ফিরে আসে তন্দ্রাগ্রস্ত ভেড়াদের রাখাল।
কুয়াশার ভেতর বাবার মুখটাও গোল মেঘের মিনার,
ট্রেনের ছায়া, গাছের ছায়া- মায়ের উড়াল-শাড়ির মতো।
কোথাও রুটির বাজনা হলে তূর্ণা নিশীথা করে
আমরা কত কসবার দিকে ছুটে গেছি!
আহা, মুখের কাছে বেতফলের ধারণা
তখনো জীবনানন্দ একাকি ঘুমায় বরিশালে!
আর পাখিপালক জুবায়ের, তুমি বলছো-
ট্রেন একটা উড়ন্ত ডাকঘর, যেখানে
শধু অপেরা-পাখিদের চিঠি বিনিময় হয়!
আমার চোখের ভেতর একটা কমলাপুর থাকে
যাকে মায়ের কবরে রেখে দিয়ে এসেছি-
১৯৯৯ সালে।

শীতজামালের ফল
শীতজামালের ফল, তুমি জাগো।
তোমার ভেতর খেলা করে লাল রেশমের বল
আমি দৌড়ে চলি, এদিক ওদিক উঁকি মারি
আমাকে সাজাও লোহার জ্যাকেট পরাও।
আলহামদুলিল্লাহ, মালিক
আমার শরীর খাড়া তোলোয়ার
যেদিকে তাকাই সেখানেই দেশ বানিয়ে বেড়াই।
আগুন নদীর ঘ্রাণ নিয়ে বাঁচি
আমার কলিজা লাল গোলাপের শান।
আলহামদুলিল্লাহ, মালিক
আমি চোখ দিয়ে অপলক দেখি
রূপের মহিমা দূর কারিশমা- বনলতা সেন।
পেরিয়ে এসেছি খোদাহীন সেনাদের দল
তাদের মরণ কামড়- শরীরে রক্ত অচল
যেন আমাজন অজগর খায় আমাকে উজার!
আমি পড়ি দ্রুত জীবিত আয়াত অবিচল
আমার ভেতর খালিদ-মহিমা জাগে পরিচয়।
শীতজামালের ফল, তুমি জাগো
তোমার ভেতর খেলা করে লাখো গোলাপের কল
আমি রূপ আর গন্ধ মাতাল, মজনু পাগল।
ভাষার বাগানে
ভাষার বাগানে মরে যাই
যেন গোপন শহীদ আমি যুদ্ধ সীমানায়।
কুটিল কার্তুজ জমে কবিতার কাঁটাতারে
ঘেরাও করেছে কুম্ভজল- কৃত্তিবাস।
দৌড়ে আসে আর্যরাজ, পাল, সেন সেনাবাজ
যেন আমি-জন্মঅন্ধ প্রসবিত হয়েছি গোয়ালে
চৈতন্য কুটিলে কাঁদে মানুষের জাতপাত।
আমার নিখোঁজ পাখি খুঁজে ফেরে ডানার ম্যাজিক।
জান তড়পায়। যা পাই তা নাই, শব্দ লুপ্তকারাগার।
নিজেকে হারিয়ে মিথ্যা মায়ার উড়াল!
এসেছে কী দূত-খলিফা? লণ্ঠন কি জ্বলে সারারাত?
আমাকে কি দেবে পথ- অশ্বারোহী, কামিল সহিস?
জানি আলো-অন্ধকার, করাত কলের
বাজু নড়ে দিনরাত।
ভাষার সন্তান মরে গেছে- রক্ততাম্রলিপি,
নতুন অতিথি জাগে, গন্ধ-হিজাজের দান।
জ্বালিয়ে রেখেছি গুপ্ত পতাকাকামিন
যেন ফুল ফোটে পাথরের বুকে
মন সদা ফানা ফিল্লা, নাচে মধুর আয়াত।
সীমানা পেরিয়ে যাই নীল নদ কেটে
শুনেছি ফেরার ডাক কান পেতে হৃদয় গহীনে
দূরে পড়ে থাকে অভিশপ্ত ফেরাউন, রামেসাস!
প্রথম প্রকাশঃ বইমেলা ২০২৪
প্রকাশকঃ ঘাসফুল
প্রাপ্তিস্থানঃ ঘাসফুল ফেসবুক পেইজ
ফোনঃ ০১৭২৯- ৬৮ ০৯ ০৮,
০১৮৭৪- ২৩ ৮৩ ৫২
রকমারি ডট কম
