কবি আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহর জন্মদিনে শুভেচ্ছা
সৈয়দ নাজমুল করীম
আজ ৯ সেপ্টেম্বর, কবি আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহর শুভ জন্মদিন । কবিতায় তাঁর নিমগ্ন যাত্রা আশির দশকের শেষের দিকে শুরু হলেও, পরিচিতি ও বিকাশ নব্বইয়ের দশকেই ।
নব্বইয়ের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল কবিদেরই অন্যতম তিনি । তাঁর কবিতার বিষয় যা-ই হোক, লক্ষ্য করেছি; – অলঙ্করণ ও ভাষা স্বাতন্ত্রের ঝোঁক তাঁর কবিতায় যে নান্দনিক বাক বিভূতি মজুদ করে, তা তাঁকে সমসময়ের অন্যান্যের থেকে আলাদা করে তোলে ।
কবিতায় তিনি ইসলামী সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যও তুলে আনেন নির্দ্বধায়। তবে তা অন্যান্য ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতি বিষোদ্গারের লক্ষ্য নিয়ে নয়। অন্তত; আমি যতদূর বুঝতে পেরেছি ।
এ ক্ষেত্রে বলা প্রয়োজন বোধ করছি যে, যদি কারো কবিতা তাঁর ধর্মীয় সংস্কৃতি আশ্রয়ী হয় এবং তা যদি কোনো জনপদের একাধিক ধর্মাশ্রয়ী সমাজ-সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বৈরী না হয়, তাহলে কারো এই বৈধ স্বাধীনতার প্রতিপক্ষে দাঁড়ানোর মতো প্রতিক্রিয়াশীলতা চর্চায় আমার নারাজি আছে ।
আর কবিতায় ধর্মাদর্শ এবং ঐতিহ্য থেকে আনাজ-মসলা নেয়ার প্রশ্নে পুরাণ ও উপনিষদ থেকে কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর এবং কবি জীবনানন্দ দাশ তো তা নিয়েছেন; আমরা বাংলাভাষী
বাঙালি জনসমাজ তাঁদের সাহিত্য তো পড়ছিও। অতএব কবিতায় ক্বোরআন-হাদিস এবং ইসলামী ঐতিহ্য থেকে সত্য ও সুন্দরের সন্ধান কি করা যাবে না !
বাঙালি তো অতিন্দ্রিয় বা আধ্যাত্মিক চেতনা শূন্য কোনো জাতিও নয়। বাঙালি একটি মিশ্র আধ্যাত্মিক ভাবাদর্শী জনসমাজ। বাউল কবি ফকির লালন শাহ এবং দ্রোহ ও প্রেমের কবিতা কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায়ও যার নান্দনিক প্রকাশ আমাদের চৈতন্যে নাড়া দেয়।
কবি আবু সাঈদ ওবায়েদুল্লাহকে আন্তরিক অভিনন্দন ও তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি । তিনি আরও লিখুন এবং আরও ঋদ্ধ ও উর্বর করুন আমাদের কবিতা ভূমি ।
সৈয়দ নাজমুল করিম
০৯.০৯. ২০২১
বাংলাদেশ
একটি কবিতা লিখবো বলে
মো.হুমায়ুন কবির
বাংলাদেশের প্রথম সারির একজন অন্যতম কবি আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে সম্মান ও মাস্টার্স শেষ করে কর্মজীবনের শুরুটা করেছিলেন বিসিএস ক্যাডার সরকারি চাকরির মাধ্যমে। দেশে থাকতেই তিনি তাঁর মেধা ও মননের স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন বাংলা সাহিত্যে বিশেষত কাব্য জগতে। ঢাবির ইংরেজির অধ্যাপক ও পরবর্তীতে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়র ভিসি প্রয়াত কবি খন্দকার আশরাফ হোসেন স্যার এবং ঢাবির ইংরেজির অধ্যাপক ড.সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম স্যারের অত্যন্ত স্নেহধন্য ছাত্র ছিলেন। গত কয়েক দশকে তাঁর অনেকগুলো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে শিক্ষকতা করছেন। তিনি আমার বালকবেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একসাথেই আমরা বেড়ে উঠি। সুদূর সিডনি প্রবাসী এই কবির আজ ৫৬ তম জন্মদিন। এ দেশ থেকে সে দেশের সময় ০৪ ঘন্টা এগিয়ে।
তাঁর শুভ জন্মদিনে আমার এই ছোট্ট নিবেদন:
ঘুমিয়ে পরোনা বন্ধু
আরেকটু জেগে থাকো
ফেসবুকে বাংলাদেশ থেকে
তোমার জন্যে একটি কবিতা
যাবে বলে
তোমারই এক বালকবেলার কবিবন্ধু
কেমন অস্থির হয়ে লিখছে।
মনে পড়ে ও বন্ধু আমার-
বিকেল হলেই বুড়িগঙ্গার
শাখা নদীর পাড়ে
হাফপ্যান্ট পড়া দুই বালক
বাদাম আর পাপড়ি খেতে খেতে
কতোযে কথার পায়রা উড়াতাম!
মনে পড়ে পুরান ঢাকা হাজারীবাগ
মোড়ের নুরার বিরানি
এক হাফ মাত্র ছয় টাকা!
মনে পড়ে মাত্র পঁচিশ পয়সায় সিঙারা
এক টাকায় দু’জন দু’টা করে চারটা
কী সুস্বাদুইনা ছিলো!
কয়েনবক্সে সিকি ফেলে
আহা দু’জন দু’টাতে
কাদের সাথে যেন কথা বলতাম
সেকথা থাক বন্ধু
সেইসব আনন্দ আজ আর নেই!
ওখানে সাগর পাড়ে যখন দাঁড়াও
নিশ্চয়ই মনে পড়ে সেই
হাজারীবাগ আর বুড়িগঙ্গা!
তোমার এই শুভ জন্মদিনে
একটি কেক অপেক্ষা করছে
সেটি কাটা হবে বলে অপেক্ষায় আছে
তোমার পরিবারের সবাই
এমনকি তুমি যার নানা হয়েছো
সেই দু’বছরের ছোট্ট ইউসুফ খান!
ভালো থেকো বন্ধু
আর প্রতি বছর একটি করে
কাব্যগ্রন্থের জনক হও-
দোয়া রইলো অসীম।
০৯.০৯.২০২১
বৃহস্পতিবার
ঢাকা: বিকেল ০৫:৩০
বাংলাদেশ
আজ কবির জন্মদিন
ইফতেখারুল হক
কবি আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ বাংলা কবিতার এক আশ্চর্য প্রতিভা। একটি সুন্দর কবিতা রচনা কবির শুধুমাত্র প্রতিভার ফল নয় তার পেছনের গল্পে রয়েছে ভাষা ও ভাষাভিত্তিক সমস্ত রীতিনীতি ও তার ভেতরে লুকায়িত সকল সৌন্দর্যের এক স্বভাব নির্ভর মূলকাঠামোয় গিয়ে কবিতাকে নিজের করে তা কবিতা প্রেমীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া । কবি আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ’র প্রতিটি কবিতা ঠিক এমনই ! কবি যখন পেরিয়ে যায় জীবন ও যাপনের প্রতিটি ধাপ সময়ের সাথে সাথে তখন তাঁর ভিতরেও দেখা দেয় পরিবর্তন, কবিতায় ও কবিতার ভাষা তৈরিতে । কবিতা একমূখীর, অন্তর্জালের কিংবা বলতে পারি একরৈখিক কোন সীমানার দেয়াল নয়। তার রয়েছে বহুমাত্রিকতা। উতকৃষ্ট কবিতা তার ভাষা ও কাঠামোর দেয়ালে আঁকতে থাকে কবিতা ও কবিতাবিষয়ক সমস্ত চিত্রকলা । আর তা যখন একজন কবি পারেন তখন সে কবি হয়ে উঠেন প্রকৃত। এবং ভাষা ও ভাষাবিষয়ক সমস্ত কিছুর বরপুত্র ! সহজ কথা নয় এটি। অর্থাৎ তা কুলিয়ে ওঠা; সঙ্গে পেরে ওঠাও । কিন্তু আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ এইসবের প্রতিটি ধাপ ও সীমারেখা সাবলীল ভাবে ও নিজস্ব ভাষা স্বভাবেই উতরে গেছেন !
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ’র প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘শীত মৃত্যু ও জলতরঙ্গ’ থেকে ‘নতুন পান্ডুলিপির দিনে’ পড়াকালীন আমরা এমন এক আবু সাঈদকে খুঁজে পাই যা আমাদেরকে সত্যিই ভাবিয়ে তোলে আর সেই ভাবনা থেকে আমরা আশ্চর্যের ম্যাজিক পর্ব অতিক্রম করি ! তিনি কবিতার পর কবিতায় পরিবর্তন এনেছেন । কবিতা হয়ে ওঠার প্রয়োজনেই । এনেছেন বলতে এসে গেছে অবধারিত ভাবেই কবিতার ভিতরের কলকব্জা অর্থাৎ ভাষা পরিবর্তনের চাহিদা অনুসারেই ! তিনি থেমে থাকেননি, ঘুমিয়ে থাকেননি শীত মৃত্যু ও জলতরঙ্গ নামক হিমঘরে । তিনি হেঁটে গেছেন নতুন পান্ডুলিপির দিনে নামক এক ভাষা ও ভাষাবিষয়ক জমির উপর দিয়ে । যেখানে অজস্র রোপনের পথটি উন্মুক্ত রেখেই ।
শুরুর সাঈদকে পড়ে কোন একজন পাঠক কবির প্রতি দেখাতে পারেন ভাল লাগা আর ভালবাসা । আর শেষের সাঈদকে পড়ে সেই পাঠকের ভিতরেই সৃষ্টি হতে পারে অন্য এক পাঠকের রূপ। এবং তিনি বদলে যেতে পারেন কবি ও কবিতাবিষয়ক প্ররোচনাতে ।
কবি আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ’র এই দীর্ঘ পথচলা এতটা সহজ ছিল না। তিনি তাঁর পথ চলায় শুধু কবিতাকেই ভালবেসে এগিয়ে গেছেন বিক্ষিপ্ত আর বিরুদ্ধ পরিবেশ ও স্রোতের উল্টো পথ ধরে। এখানেও তিনি এক অনন্য স্বাক্ষর রেখে গেছেন গোপন নির্লিপ্ততায় !
আজ কবির জন্মদিন । তাঁকে জানাই শুভেচ্ছা ও অবিরাম অভিবাদন ।
০৯/০৯/২০২১
বাংলাদেশ
জন্মদিনে প্রীতি জানবেন কবি। সেই ৯০ থেকে আপনার কবিতা পড়ছি। একবিংশের মাধ্যমে আপনার কবিতার সাথে পরিচয়। বার বার মুগ্ধ হয়েছি- কবিতায় নতুন বাকরীতি, শব্দ চয়ন উপস্থাপন, এক কথায় অন্য রকম। সব চেয়ে ভালো লাগে আপনার কবিতার ভাষা, যা একান্তই আপনার। এক একটা লাইন যেন নিজেই কবিতা কারণ আপনার কবিতার স্বর, দ্যুতি এক লাইন থেকে আর একটি লাইনে জড়াজড়ি করে থাকে না, আলদা হয়ে আবার এক হয়ে যায়।
দীপালি নিয়োগী
০৯/০৯/২০২১
ভারত
শুভেচ্ছা। আমিও কবিতা লেখার চেষ্টা করি। তাই আপনার কবিতার একনিষ্ঠ পাঠক। অনেক আগে বাংলাদেশে গিয়ে ক্রমশ আপেলপাতা বেয়ে এবং সিজদা ও অন্যান্য ইসরা- কিনে এনেছিলাম। এখনো পড়ি। কবিতা ভালোবাসি। আপনার সুসাস্থ্য কামনা করি। চিয়ার্স কবি।
শাহরিয়ার ইকবাল নাবিল
০৯/০৯/২০২১
ইউ এস এ
