আমার দ্বিতীয় কবিতার বই–বাল্মীকির মৌনকথন(১৯৯৬)

আমার দ্বিতীয় কবিতার বই- বাল্মীকির মৌনকথন বের হইছিল ১৯৯৬ সনে। এই বইয়ের অনেক কবিতাই কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেন সম্পাদিত লিটল ম্যাগ ‘একবিংশ’ তে প্রকাশিত। এর আগের বছর ‘শীতমৃত্যু ও জলতরঙ্গ’(১৯৯৫) বের হইছিল। পাঠক এর আগের একটা পোস্টে আমার প্রথম বইয়ের কবিতার চরিত্রগুলি হয়ত খেয়াল করেছেন। প্রথম কবিতার বইতে আমার ‘আমিকে’ চূর্ণ আয়নায় দেখা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বোধের বিবিধ অনুষঙ্গগুলিকে যুগপৎ মূর্ত ও বিমূর্ত ভাষায় ধরার চেষ্টা ছিল। একজন নবীন কবি হয়ত তার জন্ম ও জন্মের পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা আশা আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, স্বপ্ন-ভঙ্গ, হঠাৎ পাওয়া সুন্দরের বিম্বিত মুহুর্তগুলিকে এভাবে ভাব ও ভাষায় প্রকাশ করার কোশেশ করেন। এখন আমি ভাবি এইসব কবিতায় আমি হয়ত আমার জন্মটান, ভাইবোন জননীঘেরা পারিবারিক ছায়াটাকে আঁকতে চেয়েছি। আমার অনেক কবিতাই এই কথা বলবে। এ যেন এক মায়া, যার থেকে ফিরে আসা যায় না। কিন্তু আমার দ্বিতীয় কবিতার বই ‘বাল্মীকির মৌনকথন’ এ আমার দৃষ্টি প্রসারিত হয়ে গেলো। সমাজ, সংঘ এবং ইতিহাস ঐতিহ্য, রাজনীতি এসব বিষয়, অনুষঙ্গ কবিতায় ভর করতে শুরু করলো। আমি  নব্বই দশকের কবি। মানে কবিতার মূল কাজটা নব্বইয়ের পাদপীঠে তৈরি। আশির দশকে কবিতায় যেখানে একটা পাগল করা আত্মরতি, হিন্দু ধর্ম ও পুরান, গ্রেকো-রোমান খ্রিস্টান মিথোলজি ইত্যাদি বিষয় আশয় কবিতার আবহ ও ভিত্তিমূলে কাজ করলো, যেখানে পশ্চিম বঙ্গের কবি জয় গোস্বামীর আত্মক্লেদ, জরা অসুখ, সনাতন ধর্মঘেঁষা কাহিনি, মৃত্যুভাবনা আশির দশকের বাংলাদেশের কবিতাকে গ্রাস করেছিল, সেখানে নব্বইয়ের কবিতা যেন জীবনের সদর্কতা, আত্মিক ও শারীরিক সুস্থতা এবং বেঁচে থাকার আলোটুকুকে অবলম্বন করতে চাইল। তাকাতে চাইল বারান্দার বাইরে, পূর্ব পশ্চিমে, ইতিহাস ও ঐতিহ্য, বাংলাদেশের নিজস্ব ভূমিবাহিত জীবন ধারণ, ধর্ম,  কৃষ্টি ও কালচারে। তাই ভাষা মাল্টি লেয়ারড হয়েও হলো- সমাজবিস্তারি ও গণমূখি। কবির কনশাসনেস মাইক্রো থেকে ম্যাক্রো ধারায় নিজের নাড়ির কাছাকাছি থেকে কাজ করতে লাগল। আশির দশকে ব্যক্তি ও ব্যক্তিকতা ছিল কবিতার আধার ও আধেয়। নব্বইয়ের কবিতা সেই ব্যক্তি তার ব্যক্তিকতা ছাড়িয়ে- আমি, তুমি, তোমরা ও আমরা তথা বহুতে নিজকে ধরতে চাইল। স্বর হলো বহুবিধ, কবিতা জনমানুষের প্লু্রাল জীবন যাপনের কণ্ঠকে ভেতরে বাজাল মিশ্ররেখায়। কবি লোকসমাজ ও সংসারের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে চাইল। আমার এই বইয়ের কবিতাগুলো সেই চিহ্নসমূহকে যেন ধরতে চাইল।  আমি যখন এই বইয়ের কবিতাগুলি লিখি তখন বাংলাদেশে উত্তর আধুনিক আন্দোলনের পশ্চিমা ও নিজ দেশীয় রূপ ও রেখার সাথে আমরা পরিচিত হয়ে উঠছিলাম ধীরে ধীরে। নিজ দেশ, সংস্কৃতি ও জন মানুষের বহুবিধ জীবনাচারণ কবির কবিতায় চলে এলো। এই সময়ে আর দুইটা বিষয় সেই সময়ের লেখালেখিতে প্রভাব বিস্তার করেছিল। একটা হইল- রোলা বার্থের ডেথ অব দ্য অথর- আইডিয়াকে ধরে টেক্সট বা লেখাই হয়ে উঠলো উপলক্ষ্য, লেখক নয়। পাঠক লেখাকে লেখকের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের শৃঙ্খলা থেকে মুক্ত করে- তাকে নিজের মতো করে পাঠ করতে চাইল। বার্থ বললেন একটা লেখার অনেক স্তর ও অর্থ থাকে। তিনি লেখাকে ‘টেক্সট ও টেক্সটাইল’ এই ধারণায় দেখলেন এবং বললেন একটা টেক্সট ফেব্রিকের মতো অনেক সুতায় ও কারুকার্যে বোনা, একটা টেক্সট আমাদের জীবনের আমদের কালচারের বিভিন্ন সুতো ও সূত্র ধরে রাখে। তাই একটা টেক্সট যেকোনো জায়গা থেকে শুরু করা যায়, পড়া যায়। এই ধারায় কবিতা হয়ে উঠলো বহুবিধ ব্যাখার জায়গা- যাকে ফ্রি প্লে অব টেক্সট বলা হয়। অন্যটি হইল দারিদার ডিকনস্ট্রাকশন তত্ত্বের নির্যাস অনুযায়ী কবিতাকে বোঝা। দারিদার মতে শব্দের একার কোনো একমাত্র মিনিং নাই, কারণ একটা শব্দ আর একটা শব্দের সাথে জড়িত। একটা টেক্সটের মিনিং তৈরি হয় শব্দকে যুগ্ম বৈপরিত্বের (বাইনারি অপজিশন) কাঠামোতে পাশাপাশি সজিয়ে। এমন করতে গিয়ে দারিদা দেখালেন যে একটি রচনা আসলে কেন্দ্রহীন, কারণ একটা শব্দকে ডিকনস্ট্রাক্ট করলে বোঝা যায় এর সাথে বাইরের আরো কত কত শব্দ জড়িত। তাই নব্বইয়ের কবিতা কিছুটা কেন্দ্রহীন, বহু রূপ ও রেখায়, মাল্টি লেয়ার ও অর্থে লিখিত। এতে অবশ্য কবিতা জটিল হয়েছে। কিন্তু পাঠকের পাঠ ও রুচির পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরীশীলিত হওয়ার সাথে সাথে তা আজ হয়ে উঠেছে কিছুটা সহজ পাঠ্য।

আ সা ও

০৪/০১/২০২২

 ———————-

কবিতাকে এমন করে

কবিতাকে এমন করে বলা হবে যেন রুহিতপুরের মিহি সকাল-

কালো স্লেটের মতো মাটি থেকে খুলে যায়। তার শরীরে ধানদুর্বা।

পৃথিবীর প্রথম আলো যেন মাতৃ জরায়ু প্রকাশ করে শিশু নেমে যায়।

ডাক দিয়ে মাঠের কাছে নিয়ে যায় যেন বলে আয়

তোর মাকে নিয়ে আয়– আমরা সবাই শান্তিতে ঘুমাই।

ফি বছর ভাতের চিন্তা আর ঘুমানোর চিন্তা থাকবে না।

জল থেকে উঠে আসার পুর্ব মুহূর্তেই সে তার মাতৃভূমি

আর পাথর বিছানো পথ এসব কিছু অনুভব করতে পারবে।

এতোকাল লুকিয়ে অখাদ্যে তার জীবকোষ শুকিয়ে গেছে।

ঘরের সীমানা অতিক্রম করার আগে কবিতাকে এমন করে বলা হবে…

——-

বীজ

প্রকাশ করবো নাকি প্রকাশিত হবো। প্রথম উড়াল

ঠোঁটে, তাতে লেগে লেগে আছে ঝরনার ঘ্রাণ।

এখন মেয়েরা ঝুলে তোক্তপোষে-

তাদের  হৃদয়ে গন্ধমের ভার।

আছে যে পুরুষ ওষ্ঠাগত তার চোখে এক দৈব কাল।

সে চায় অশ্রুত হতে।

আদিম খেলনা ফুটে আছি ঈশ্বরের ইচ্ছা। জানি

ফুল হয়ে শীতে নামবো কোথায় -মাঠপাত্র ফাঁকা

ক্ষয়ে গেছে ধারণ ক্ষমতা -তাই শস্যে শুধু ব্যথা।

—-

কবিতা

উৎপেতে থাকি আর মনে মনে ডাকি

দিনে বুজরুকি চালাক সময়। সে আমাকে চুরি করে আনে।

যখন তখন বাক্সে, কোটরে লুকিয়ে রাখে।

কী এমন টান বংশ ছেড়ে বিধিলিপি এইখানে!

অক্ষর-সংসার জাগে, আমি হই সমুদ্র কাঙাল।

যাকে চাই সেই পীর, সত্যপীর স্রোতে স্রোতে থাকে।

মন নেয় মাঝিকেও।

অর্জিত রঙিন জল পান করি, শুকোই বাতাসে,

একবার নেমে যাই যদি- ফেরার শপথ থাকে মনে?

——

স্ত্রী

আমি ধরলাম নাকি হারালাম তোমাকে, তোমার মতো

থাকে যদি কেউ চৈত্র থেকে শীতে।

আমি যা চাই তোমার কাছে নাই জানি, তবু করি রাজত্ব বিস্তার

এ মধুর বিষ কতো দেহ দেহান্তর, রূপান্তর

কোন দিকে নৌকা বাই?

খোলনলচে বদল করে যখন শাখাটি গেলো

আমার এ ছদ্মবাস অনুরাগ মেঘ হয়ে জমে

তাকে তুমি কবরে পাঠাও

না হয় ভেতরে নাও।

——

ঘর

স্বভাব-বিরোধী এই কলা। তবু তাকে তুমি চাও

কিরকম পেড়ে এনেছো ডুমুর বন থেকে।

যার মূল নাই সে কিভাবে শাখা দেয়

এক ফোঁটা জল তার ভিতে তৈরি করো অনশ্বর সাঁকো,

তাতেও হয় না দেখা হয় না হাড়ের গাঁথা

যতোটুকু পুরনো জড়ানো

ততোটুকু তার দেহ ব্যথা।

—–

ভোর

এই ভোর জলবাস, গন্ধে গন্ধে বেলা নাহি ডোবে।

ছিলাম নিশ্চুপ এক পাত্রে হাজার বছর।

এখন ডাকলে গহ্বর ছেড়ে উঠে আসি অন্নমুখে।

এখন বারোটা বেজে কতোটা সময় হলো,

তবু ফিরে যাবো।

পাত্রে ফেলেছি যে জাল তাতে ধরে মাছপোকা।

সকল সময়ে কারো মুখে ঝুলে কর্মের সড়ক

আমি দেখি মাছপুত্র, মাছবধু পাত্রে পাত্রে রাত্রি করে।

—–

সম্পর্ক

যে নামে প্রসব করি তাতে কিছু নাই। জ্বলেনা তারার ডিম

মধুমাসে, ছদ্ম বিড়ালেরা মাছ ধরতে ধরতে রাস্তাটিও খায়।

সেখানে সাপের আলো আমাকে অসাড় করে খালে বিলে নামে।

তবু আমি সাধ্যমত চন্দ্রফুল হাতে হাতে দিই।

বাইরে প্রকাশ থাকে চন্দনের কাঠ ভেতরে বাড়ি ফাঁকা

অনুভূতি দন্দ্ব। ভাইবোন মিলে মিশে যাত্রা করে যাই।

রাজা প্রজা মহারাজা ঢাকঢোল ঢোলের বিভূতি, মাঝখানে

রূপের পোশাকে অন্ধকারে ম্যাকবেথের- ডাইনী।

——

কবিগ্রহণ

ছিলো গোপন প্রবাহ সমুদ্র ও চুলে

আদি থেকে অন্তে মৌন বোঝাপড়া।

উপলদ্ধি মেয়ে সেজে মোক্ষ ফল ফলায়

সে জানে তাও।

এখন ভেলায় চেপে জলমহলের মৃত্যগুলো দেখে।

ভাসছিল সে নিভাঁজ হয়ে পরিত্যক্ত।

সর্ব অঙ্গে কালিদহ, অতিহিংসা

এক ইঞ্চি দুই ইঞ্চি করে করছে আলাদা

তাকে নিয়ে এলো আমার ডুবন্ত মাথা

দেহটুকু সহ্য করে পড়লো প্রভাতে।

সময়ের আদি শাখা ঘুরে ঘুরে  সমূল বিস্তার।

তাতে দৃশ্য পিপাসা- অপেক্ষাভেদে

পা গুলো সরিয়ে উঠে যায় তীরে।

দুই পাশে দুই জন্তু তাকে খায়

তবু সে আদিম সহোচর -সহপাঠী ঈশ্বরের

তাই মাথার ভেতরে গিয়ে মোমগুলো জ্বালে।

অন্ধ হোমারের জন্মজ্ঞান ভালো।

তা না হলে এমন বর্ষায় সে আটকে যেতো শ্যাওলায়

                   আর নদীকে বলতো নদী।

——

সৃষ্টিতত্ত্ব

কবিতা নিয়ে কাজ করে বন্ধুরা। কাজের কি হলো কবিতায়?

বুঝি না আমি। বুঝতে বুঝতে আমার শরীরে বটগাছ শাদামাছ

এইসব কিছু গজালো।

কাছিমের মতো তারা জল ও শ্যাওলায় শুয়ে থেকে

পারাপার করে দিলো শতো জন্মমৃত্যু কাহিনী।

গোল  চোখের মতো ভোরে সেই গন্ধ এসে নাকে লাগে।

ঘুম ও জাগরণে আমাকে কোন পথ এসে গেঁথে নেয়।

তবু তারা কাজ করে মাঠ থেকে এসে। গাভীর দুধে

ঈশ্বরের লুকনো ইচ্ছা দেখে গীত করে ওঠে।

তারপরও ধন্ধে ভোগে।

ভাবে এই ইচ্ছা আমার নাকি তার।

——–

চিঠিপত্র

বাক্সপত্রে বাঘের আলো, ডিমের আলো।

হাড়ে গজে ওঠা অন্ধকার, নিরীশ্বর।

দূরে জ্বলে যে প্রাণগাছ, সেও যাবে মাইল মাইল, একান্নবর্তী।

পথ প্রান্তরে পুনর্জন্ম নুড়ি পালক ও পরিখা। সেও খাবে-

এই রাত্রি, রেলে করে আসা প্রত্নময় ইচ্ছা।

নিচু হয়ে বাড়িগুলো ঢেউ থেকে পাওয়া 

তারও অক্ষর অভিষেক এই স্রোতে।

বালিকা ভিজে ছিলো- জবারক্তে

যখন বাক্স থেকে খুলে গেলো ডিমের আলো

কুমারী প্রবণতা তড়পায় জলে।

দরোজায় সবুজ কড়া নাড়া

বাহিত ভাষা আমাদেরকে ছোঁবে।

—–

পথে পাওয়া আলো

দীঘিপাড়ে আলো ফুটে উঠা জেব্রাশিশু, অন্তর্মুখী।

স্বপ্ন থেকে ডাকে যেন সহোদরা, বোন- জন্ম জন্ম নীল।

বয়স উত্তীর্ন ভোরে ডিমের সময় হলো

আলো নিচে গিয়ে ধুন্ধুলের বোঁটা থেকে ছিড়ে দিলো ফুল।

মনে পড়ে পথশ্রম

ফেলে এসেছি কোকিল কথা দয়া ও দাক্ষিণ্য।

পায়ের খরায় জমে থাকা জল

জলে জলে কুকুর লড়াই- ঐতিহাসিক।

জেগে থাকি সর্ন্তপণে, বেলা উঠে বোধিদ্রুমে

ঝোপ থেকে পাখাসঞ্চারী এক চাঁদ

দোল খেয়ে পড়ে গেলো কোথায় কোন প্রহরী দ্বীপে।

পাতার কিনারে আলো– জলঘরা ভরে নেবে অতীত মুহূর্ত।

ফিরে আসার দরোজা ভেবে মাথাটি বাড়াই

দীঘিপাড়ে আলো- ফুলে উঠা জ্যোৎস্নাশিশু, মাতৃমুখী।

পথিক নিহত হলো জামা খুলে।

—–

তন্দ্রা প্রস্তুতি

তন্দ্রা। পাশে এসে বসলো। তখন ধীরে ধীরে রাত

তখন আড়াল নেই কোনোখানে। তন্দ্রা। মাঝখানে নদীটি ভাঙলো।

হাতে বনজঙ্গলের শীর্ষ, আমি পথের প্রার্থনা করি -তন্দ্রা পলায়ন, তন্দ্রা দৌড়।

অনেকেই ভেবেছিলো এর আগে বহু ডাল আছে, অনেক পাহাড়

কেটে বসতির কথা বলবো। অথচ এটি সত্যি এর পূর্বে কিছু নেই।

যদি থাকে সেতো তন্দ্রা। আমার সমস্ত ডাক, হাড়ে হাড়ে।

এভাবে পথের বর্ণনা দিই, এভাবে পথের চিহ্ন খুলে খুলে আমাদের

জন্মশিলা আলোড়ন এবং প্রাপ্তিতে প্রহরগুলো নিরুদ্দেশ।

যেভাবে পুড়েছি হাতে হাতে যেভাবে আহার মাত্র রাত্রিবীজ থেকে আসে

যেভাবে এখন আরোহণ হয় সেভাবে অতল ভেঙ্গে ভেঙ্গে

স্রোতমূখী ভাসমান। তন্দ্রা প্রথম দরোজা খুলে উন্মুখর। তন্দ্রা।

—–

প্রেম

আধিভৌতিক এ গান আমি অল্প বয়সে নিয়েছি।

যেন অহিজাতের গরল- রন্ধ্রে রন্ধ্রে ধ্বংসকলের গীত।

আমি গুরু বইতে পারছি না, আমি গুরু নীল নীল নীলকন্ঠ।

                             পারি তো আজই হস্তান্তর করি।

ধরেও রাখতে পারছি না আর কেবল উন্মুখ ফেনা

বহিরাঞ্চল প্লাবিত করে বহে যায় ভাগাড়ে ভাগাড়ে।

আধিভৌতিক এ গান কন্যা তুই ধরেছিলি রূপ রূপানলে

অথচ কেমন ভেসে গেলি কালিন্দির জলে!

——-

গ্রামে নদী-ভূমিকা

ভেতরে গিয়ে ভিক্ষা চাই

আর পাঠশালাগুলো ফিরিয়ে দিই।

বেঞ্চিতে বসে ছেলেমেয়েরা এর ওর পুঁটিমাছ গুলো দেখুক।

লাল ইটের মতো পোড়া সঙ্গ

শাদা তরলে ভেসে যেতে বলি।

স্রোতশীর্ষে চন্দ্রগুলো ফেটে ফেটে যায়

প্রথম রাতে

কালো বউয়ের স্পর্শগুলো ছোট ছোট নদী।

———–

প্রথম সংস্করণ ১৯৯৬

প্রচ্ছদঃ তুষার গায়েন

প্রকাশকঃ জুয়েল ইন্টারন্যাশনাল

দ্বিতীয় সংস্করণ ২০১০

প্রচ্ছদঃ সরকার আশরাফ

প্রকাশকঃ নিসর্গ

Leave a Reply