আমি ও ২২শে শ্রাবণ

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

বাইশে শ্রাবণ আসলে পরে

একটা রবীন্দ্রনাথ আমার পাশে বইসা থাকে।

আমার গরুর মাংস খাওয়া দেখলে তিনি চইলা যান না

বা আমার ‘আল্লাহু আকবর’ বইলা আজান দিলেও

রাগ করেন না। তিনি আমার মুখের দিকে তাকাইয়া থাকেন।

আমি- সোনার তরী, গীতাঞ্জলি, নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ-

এইসব কবিতা আবৃত্তি কইরা শোনাই।

রবীন্দ্রনাথের পিপাসা লাগে। আমি পানি আইনা দেই।

এক সময় তিনি চায়ের কথা বললে, আমি চা বানাইয়া দেই।

আমি বলি দেখেন আপনে মুসলমানদের নিয়া লিখেন নাই

বইলা আমার কোন দুঃখ নাই। এইটা হইতেই পারে।

কিন্তু আপনে আমাগোরে ‘বহিরাগত’ বলছেন,

‘ভিনদেশি’ বলছেন- এতে আমি কষ্ট পাইছি।

আমি বলি ‘শুনেন কবি, আপনিও তো বাইরের লোকই’।

এইটা শুইনা রবীন্দ্রনাথ লজ্জা পায়। মুখ ঘুরাইয়া

জানালার দিকে তাকাইয়া থাকে।

তখন আমার নবিজীর কথা মনে পড়ে।

তিনি কীভাবে একজন আবিসিনিও আর কালো

আমার ভাই- বেলালকে বুকে জড়াইয়া নিছেন।

এইসবই ইসলামের শিক্ষা। এইখানে

জাতপাতের কোনো ভেদাভেদ নাই।

তাই ৮০০ বছরের রাজত্বের পরও মুসলমানরা

ভারতবর্ষ থাইকা কাউরে চইলা যাইতে বলে নাই।

তারপরও বাইশে শ্রাবণ আসলে পরে

একটা রবীন্দ্রনাথ আমার পাশে বইসা থাকে।

সবকথা শোনার পরও তিনি কোথাও চইলা যান না।

আমার ভাষার মধ্যে চুপি চুপি নৌকা চালাইয়া যান!

০৮/০৮/২০২০

#আবুসাঈদওবায়দুল্লাহ

Leave a Reply