আমার কবিতা
সুস্থতা আমি চাই না।
সুস্থ হৃদয় শুধু সাদা সাদামাটা,
যেন মুখোমুখি বসানো দু’খানি আয়না,
বড় হিম, সান্নাটা-
আমার কবিতা অন্ধকারের হায়েনা।
(সিডনি, ২০০৫)
হা-খোলা আকাশের নীচে
লৌহযবনিকা উঠে গেছে,
প’ড়ে গেছে ঘরের দেয়াল,
আমরা খোলা আকাশের নিচে
খোলা রোদে লাল।
পাঁজরের বর্ম মাখন
পুঁজ গলছে পুজির কটাহে
ও আমার প্রসূন, এখন
জন্মায়ো না হে।
(সিডনি, ২০০৫)
যা দেবি…
হাওয়ার বদলে
তোমাকেই টেনে নিই শ্বাসে
এবং কী গাঢ় ঘুম আসে
রক্তের বদলে
তোমাকেই হৃদপিণ্ডে পাঠাই
এবং অমৃত হ’য়ে যাই
(সিডনি, ২০০৫)
গান-১
আমি মাটি, তুমি গগনে
আমরা মিলাব আগুনে
আমার যাত্রা পানিতে
তোমার প্রয়াণ পবনে।
পন্চভূতদের ঘানিতে
যে আছে মোদেরে ছানিতে
আমরা অমল ফানিতে
মিলাব তাহার স্বপনে।
(সিডনি, ২০০৫)
কোজাগর
(লোলা)
আজ রক্তের ধারা চঞ্চল,
দু:- স্বপ্নের মতো উন্মাদ-
আজ সৃষ্টির স্খলদঞ্চল,
কাম- জর্জর গূঢ় সম্বাধ;
এই নি:স্বের হাতে বিশ্বের
আজ নি:শ্বেষ হবে সিন্দুক,
আর গুম-খুন হবে ঈশ্বর-
আহ! পূর্ণিম শরদিন্দু!
(সিডনি, ২০০২)
গান-৪
মিসিবাবা, আমি তোমার খাদেম, জনমে-জনমে তুমি মম মালকিন,
মলিন ধুলায় ফেলো না সোনার পা,
আমার শরীর: এ তোমার পালকি,
আমার হৃদয়: এ তোমার পাদুকা।
তুমি যে এসেছ, বেসছ, হেসেছ এই দুনিয়ায় অন্তত: একবার,
ব্রক্ষারল্যাব- এ মধুর দুর্ঘটনা!
সেই উল্লাসে উলঙ্গ ম্যাকাবার
নাচিছে জগৎ; তোমার পরে যে অনাথ…
(সিডনি, ২০০৫)
স্বর্ণযুগ
যেখানে অতীত কাল, ভবিষ্যৎ কাল
মিলে যায় এক নীলজ্যোৎস্না মোহনায়
সেখানে দাড়াও যদি, বর্তমান কালের বাইরে
তুমি স্বর্ণযুগের বুলন্দ দরোজায়।
(সিডনি, ২০০২)
বড়-বড় আদমগুলি
বড়-বড় আদমগুলি
টপটপিয়ে গেল ঝরে,
ছোট-ছোট এতিম-এতিম
আদমি কিছু রইল পড়ে।
আর কেন ভাই, এসো তবে
কান্দি বসে গলাগলি!
দেয়াল তো সব ভেঙ্গে গেছে,
আজকে আবার খানিক পেছোও।
(সিডনি, ২০০২)
টায়রার রান্না
আকাশের বিশাল হাঁড়িতে
রান্না চড়িয়েছে কন্যা মোর:
এচাখের আলোর তাপাসিতে
নেড়ে দিচ্ছে নক্ষত্রের ভাত,
দেখছে, দিয়ে কুটুম কামড়,
নরম হয়েছ কীনা চাঁদ –
আমার মগজ ফেটে যায় –
বাকি সারা বিশ্ব আপামর
ক্ষুধালোভাতুর অপেক্ষায়…
(সিডনি, ২০০৫)
সূত্র: কবিতাসংগ্রহ, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ, ২০০৬
