কয়েকটি প্রেমের কবিতা

আম্মা চলে গেলে- সাদা কাপড় পড়ে থাকে আলনায়।
তাকে দিয়ে কাঁথা বানিয়ে শুয়ে থাকি শীতরাতে।
সারা কাঁথায় নাড়ি-কাটা রক্তের গন্ধ!
না দেশ না সীমান্ত এমন ঠিকানাহারা দিনে
‘ওবায়দুল্লাহ ওবায়দুল্লাহ’
বলে- কে ডেকে ওঠে অন্ধকারে?
প্রথম জন্মের মুহূর্ত- ফুল আর সৌরভের বাগান।
সারা বাগানে একটানা গোলাপের কলরবঃ

রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বি ইয়ানি সাগিরা।


সব ভাষা থেমে থাকে এইখানে।
অথবা সব ভাষার মুক্তি এই পথে।
এক পা দুই পা হাঁটি
ক্রমশ আলগা হতে থেকে পৃথিবীর
বন্ধন, মায়া-চোরাকাঁটাগুলি।
যেন কোথাও যুদ্ধ ছিল শরীরজুড়ে
যেন শত্রু-ঘেরাও হয়ে আছি গুপ্ত বাংকারে!
দূর থেকে একটি লাল দালানের আশ্রয়
ঝাউগাছের পাতা দিয়ে পুকুর পাড়ে নামে

তাই দেখে পাখিসব- ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ করে।


প্রথম বাড়ি থেকে দ্বিতীয় বাড়ি যাবার আগে
একটা প্রশান্ত মহাসাগর!
যেন অচেনা নাবিক এসে ঠিকানা দিয়ে গেছে হাতে।
সামনে অশান্ত ঢেউ- জাহাজ ডুবে যায় হাঙ্গরের দাঁতে!
প্রথম বাড়ি থেকে দ্বিতীয় বাড়ি যাবার আগে
সাথে সাথে সবই আসে- পাড়ার রাস্তা
দোকানের পাপড়ি, সেলুনের অমিতাভ
সবই তাকিয়ে থাকে বায়স্কোপ ভঙ্গিমায়।
দ্বিতীয় বাড়িতে ঢোকার আগে
প্রথম বাড়ির সাথে মধুর বিবাহ।

বিসমিল্লাহ খানের শানাই বাজে পথে পথে।


নিজেকে নিজ থেকে সরিয়ে ভাষাগুলি জাগে।
পাতায় পাতায় শহীদ হওয়ার পয়গাম।
আমাকে কে হত্যা করে গোপনে?
তার নিশান ওড়ে ভাবনার টিলায়।
শত রক্তদানের এম্পিথিয়েটার রাত্রি আর সকালে।
জল, নদী- গুমন্ত জলপাই পাতার মর্মর-
দিকে দিকে জন্ম জাগছে বুকের হাবিলে।
আমি আমাকে হারাই আমাকে পেয়ে যাই
সব পাওয়ার ভাষা-যাদুঘরে।


কোথাও সাদা কবুতর দেখলে মদীনা মদীনা লাগে।
সবুজ একটা মিনার দোল খায় চোখের কোটরে।
বাহির থেকে ভেতরে যাই- সারা গায়ে
আল কাউসারের গোলাপ-ফোয়ারা!
যেন রক্তে নেমে এসেছে রিয়াজুল জান্নাহর খুশবু।
পৃথিবীর সবচেয়ে ভালোবাসার- কবর
কোটি সালাম নিয়ে ঘুমিয়ে থাকে
খুলকিন আজিমের সাথে।

আমার হৃদয় দ্বিখন্ডিত তার রোওজা মোবারকে।


এই শোকাবহ দিনে, কেবলি মনে পড়ে-
নামাজের সময় তিনি প্রিয় নানার পিঠে চড়ে বসতেন
আর প্রিয় নানা তাকে চুমু দেয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন!

২৫/০৯/২০২২

Leave a Reply