আমি বাঙ্গালি মুসলমান কবি
আমার সামনে ঝুলে রবীন্দ্রনাথের ছবি।
বলে- তুই এত দিওয়ানা হলি
ওরে ও মুসলমান কবি!
আমি বলি- আমারে একটা নাম দেন
ওহে শান্তিনিকেতনী পির।
বন্ধক রাখেন তরবারি- ধনুক ও তীর।
আমাকে কবিতাভাষা দেন নদী নদী।
আমি যেন মাছ হই- মাছের শিকারি।
আমার উঠোনে জাগে নিমগাছ
তার ফুল ছাড়ে আজব কস্তরি ঘ্রাণ
আমি বাঙ্গালি মুসলমান কবি।
আমি বাঞ্চা করি- জীবনানন্দের পাখিচোখ
ঘুরি- রূপসী বাংলার মাঠে ঘাটে- দোয়েল চড়ুই ।
যেন আমার মাথায় মাল্যকরে ভাঁটফুল
কাঁধে নাচে সুরঞ্জনা- গন্ধরাজ চুল।
আমি হারিয়েছি সবকথা
আমার জিহ্বা থেকে নামে ধান ও কুয়াশা।
আমি লাশকাটা ঘরে করি আনাগোনা
সাতটি তারার মগ্ন তিমিরে আমার ফানা ফিল্লাহ।
আমি হারিয়েছি আমার জবান ও আল্লাহ!
আমি বাঙ্গালি মুসলমান কবি।
আমি মায়াবী আজান দেবো শোলাকিয়া মাঠে।
আমার সুজুদ হবে ধুল ধূলি নীলাম্বরি ঘাসে।
লাখো মুসল্লি তিতির উড়ে আমগাছে ।
তারা গুজরান করে রাত তাহাজ্জুদে
যেন চারিদিকে নেমেছে ফেরেস্তাদের ভিড়।
আমার কলিজায় বাজে আল কোরানের সুর
কালাম ও কলিমায়- জ্বীন , শয়তান দূর
আমি বাঙ্গালি মুসলমান কবি।
আমি জন্ম লই- মেঘনা ও যমুনার তীরে
আমাকে কে পর করে- দূর আরবের দেশে?
তাদের সহাস্য শয়তানি থোরাই কেয়ার করি।
দেখো বাংলাভাষায় করেছি সহি কবিতার চাষ
আমি শব্দ-তাসবিতে নাম করি- আর রাহমান
লাল ডালিমদানায় দেখি তার কুদরতি জ্ঞান।
আমার মঞ্জিল- নাফসুল মুত্মাঈন
আমি শান্ত সমাহিত- ক্বালবুল সালিম
আমি বাঙ্গালি মুসলমান কবি।
২৫/০৫/২০২১
