কবিতায় বিশ্বাস,ধর্ম বা ধর্মীয় অনুষঙ্গ ব্যবহার করা বিষয়েঃ 

আধুনিক কবিতা ব্যাধির কবিতা, একাকিত্ব, বোরডোম, হতাশা আর নিরাশার কবিতা। সে জীবনকে দেখেছে একচক্ষু হরিণের মত, তার নেই স্থিতিস্থাপকতা। নেই শক্তি জীবনের বিবিধ টোনকে লালন করার, নেই গভীরতা জীবনের বাইনারি অস্তিত্বকে ধরার। তাই আধুনিক কবিতা অসম্পূর্ণ, রুগ্ন। সে চায় বদ্ধ ঘরে একা শুয়ে থাকতে, তার নিজেরই অসুস্থ আত্মাকে বারবার দেখতে। সে বিশ্বাসকে ভয় পায়, কারণ সে এমন এক নেতি-দানবের আখড়ায় বন্দি যে জীবনের আলোটুকু তাকে আর টানে না। কিন্তু সেও বাহ্য।

মজার বিষয় হলো কবিতায় আধুনিকতাবাদ যে ক’জন ইংরেজ কবির(টি এস এলিয়ট, ডব্লিও এইচ অডেন ইত্যাদি) মাধ্যমে বিশের দশকের শুরুতে শুরু হয়েছিল তারা সবই ছিল খ্রিস্টান ধর্মের থিমেটিক ও কালচারাল আনুষ্ঠানিকতা ব্যবহারকারিদের মধ্যে অন্যতম। এদের মধ্যে টি এস এলিয়টের ওয়েস্ট ল্যান্ড যা কিনা আধুনিক কবিতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ(মূলত টেকনেকেলি গতানুগতিক ফর্মাল ভার্স ছেড়ে ফ্রি ভার্সে কবিতা লেখা ও বিষয়গতভাবে রোমান্টিক উপকরণ ছেড়ে সমসাময়িক দ্বন্দ্বমূখর বিষয়ে কবিতা লেখা), যা আধুনিক মানুষের পতনকে চিত্রায়িত করে তা কিন্তু খ্রিস্টান ধর্মের থিমেটিক বিশ্বাস – আদমের পতন আর খ্রিস্টের আগমনকেই ধারণ করে।

ওয়েস্ট ল্যাণ্ড আর কিছু নয় এক আশাহারা আধুনিক মানুষের বিশ্বাসকে নাগাল পাওয়ার আকুল প্রার্থনা সংগীত। টি এস এলিয়ট খ্রিস্টান মতবাদ দ্বারা এত লালিত ও প্রভাবিত হয়েছিলেন যে তিনি বিশ দশকের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এঙ্গলিকান-ক্যাথলিজম এ ধর্মান্তরিত হয়ে গিয়েছিলেন। তারপরই তিনি লিখেন তার আর এক অনবদ্য সৃষ্টি ‘ফোর কোয়ার্টেটস’ নামের চার পর্বের চারটি ধর্মীয় কবিতা যার প্রধান থিম হল আল্লাহ, সময়, আর পৃথিবীর সাথে মানুষের সম্পর্ক।

তাই বাংলাদেশের কিছু ‘আধুনিক’ কবি সাহিত্যিক যারা কবিতায় বিশ্বাস, ধর্ম বা ধর্মীয় অনুষঙ্গ ব্যবহার করার বিষয়টিকে না-জায়েজ বা ট্যাবু দিয়ে রেখেছেন তারা যে আধুনিক কবিতার ইতিহাস আর নির্মাণকেই অস্বীকার করে নিজেদের কূপমন্ডুকতা, হ্রস্বতা আর অনগ্রসরতাকেই জাহির করেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

(খসড়া, চলবে)

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

১৮/০৮/১৮

Leave a Reply